রাজন্য রুহানি, জামালপুর:
জামালপুরে সাতটি উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ১৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যে সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে জেলা পরিষদের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ৫৭১টি চেক। একই সঙ্গে জেলার সংসদ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৭ অক্টোবর শনিবার দুপুরে জেলা পরিষদ হলরুমে এই চেক বিতরণ করা হয়। এর আগে জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, জামালপুরের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে, সে জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। জেলার যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল হক বলেন, জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূলের মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার মাধ্যমে জেলার প্রতিটি উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। তিনি বলেন, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জসহ জামালপুরের সার্বিক উন্নয়নে জনদুর্ভোগ লাঘব, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা মাহমুদ বাবু বলেন, উন্নয়নের সুফল প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে স্থানীয় চাহিদা ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল কবির শামীম তালুকদার বলেন, এলাকাভিত্তিক প্রয়োজন চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা গেলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
জামালপুর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য (মহিলা আসন-১০) ডা. নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমে নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সমন্বয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিনও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।





















