সাত সমুদ্র পেরিয়ে প্রেমের টানে চীনা যুবক মাদারীপুরে, গ্রামে উৎসুক জনতার ভিড়

সাত সমুদ্র পেরিয়ে প্রেমের টানে চীনা যুবক মাদারীপুরে, গ্রামে উৎসুক জনতার ভিড়
মাদারীপুর প্রতিনিধি:
প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশের মাদারীপুরে এসেছেন ওয়াং এরলিং নামে এক যুবক। চীনা অ্যাপ ওয়ার্ল্ড টকের মাধ্যমে পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। সেই সম্পর্কের টানেই হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার চাপাতলী গ্রামে এসেছেন চীনের হেনান শহরের বাসিন্দা ওয়াং এরলিং। তাঁর ইচ্ছা, মাদারীপুরের তরুণী হাফিজা আক্তারকে বিয়ে করে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করা। এ জন্য স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করতেও আগ্রহী তিনি। এদিকে, চীন থেকে আসা প্রেমিককে একনজর দেখতে হাফিজার বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। সব মিলিয়ে গ্রামজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই প্রেমের গল্প।
ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা, দেশও দুই প্রান্তে। তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তাঁদের নিয়ে এসেছে বিয়ের সিদ্ধান্তে। চীনা অ্যাপ ওয়ার্ল্ড টকের মাধ্যমে পরিচয় হয় হাফিজা আক্তার ও ওয়াং এরলিংয়ের। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, এরপর ভালো লাগা থেকে প্রেম। একপর্যায়ে তাঁরা দুজনই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একে অপরের পরিচয় করিয়ে দেন। পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান ওয়াং এরলিং। পরে হাফিজার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান।
চীন থেকে আসা এই যুবকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাপাতলী গ্রামে শুরু হয় কৌতূহল। তাঁকে দেখতে হাফিজাদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। কেউ কথা বলছেন, কেউ তুলছেন ছবি, আবার কেউ জানতে চাইছেন তাঁদের প্রেমের গল্প। ভিনদেশি যুবকের আগমনে বাড়িটিতে তৈরি হয়েছে উৎসুক মানুষের আনাগোনা।
এলাকাবাসীর কেউ কেউ এই সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, ওয়াং এরলিং ও হাফিজা বিয়ে করতে চাইলে ধর্মীয় বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, বিদেশি নাগরিকের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও যাচাই করা দরকার বলে মনে করেন তাঁরা।

হাফিজার মা বিউটি বেগম জানান, মেয়ের সুখই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে সবকিছু নিশ্চিত হতে চান তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

হাফিজা আক্তারও জানিয়েছেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বিয়ের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে চান তাঁরা।

অন্যদিকে, ওয়াং এরলিং জানিয়েছেন, ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের এবং তিনি স্বেচ্ছায় এ সিদ্ধান্ত নিতে চান। হাফিজাকে জীবনসঙ্গী করে সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
এদিকে, চীনা নাগরিকের বাংলাদেশে আসার খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা-পুলিশ হাফিজাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। পাশাপাশি, বিদেশি এই নাগরিক যাতে কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
ফেনীতে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উদযাপন

ফেনীতে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উদযাপন

সাত সমুদ্র পেরিয়ে প্রেমের টানে চীনা যুবক মাদারীপুরে, গ্রামে উৎসুক জনতার ভিড়

আপডেট সময় : ০৯:২০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
মাদারীপুর প্রতিনিধি:
প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশের মাদারীপুরে এসেছেন ওয়াং এরলিং নামে এক যুবক। চীনা অ্যাপ ওয়ার্ল্ড টকের মাধ্যমে পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। সেই সম্পর্কের টানেই হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার চাপাতলী গ্রামে এসেছেন চীনের হেনান শহরের বাসিন্দা ওয়াং এরলিং। তাঁর ইচ্ছা, মাদারীপুরের তরুণী হাফিজা আক্তারকে বিয়ে করে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করা। এ জন্য স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করতেও আগ্রহী তিনি। এদিকে, চীন থেকে আসা প্রেমিককে একনজর দেখতে হাফিজার বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। সব মিলিয়ে গ্রামজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই প্রেমের গল্প।
ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা, দেশও দুই প্রান্তে। তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তাঁদের নিয়ে এসেছে বিয়ের সিদ্ধান্তে। চীনা অ্যাপ ওয়ার্ল্ড টকের মাধ্যমে পরিচয় হয় হাফিজা আক্তার ও ওয়াং এরলিংয়ের। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, এরপর ভালো লাগা থেকে প্রেম। একপর্যায়ে তাঁরা দুজনই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একে অপরের পরিচয় করিয়ে দেন। পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান ওয়াং এরলিং। পরে হাফিজার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান।
চীন থেকে আসা এই যুবকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাপাতলী গ্রামে শুরু হয় কৌতূহল। তাঁকে দেখতে হাফিজাদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। কেউ কথা বলছেন, কেউ তুলছেন ছবি, আবার কেউ জানতে চাইছেন তাঁদের প্রেমের গল্প। ভিনদেশি যুবকের আগমনে বাড়িটিতে তৈরি হয়েছে উৎসুক মানুষের আনাগোনা।
এলাকাবাসীর কেউ কেউ এই সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, ওয়াং এরলিং ও হাফিজা বিয়ে করতে চাইলে ধর্মীয় বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, বিদেশি নাগরিকের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও যাচাই করা দরকার বলে মনে করেন তাঁরা।

হাফিজার মা বিউটি বেগম জানান, মেয়ের সুখই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে সবকিছু নিশ্চিত হতে চান তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

হাফিজা আক্তারও জানিয়েছেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বিয়ের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে চান তাঁরা।

অন্যদিকে, ওয়াং এরলিং জানিয়েছেন, ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের এবং তিনি স্বেচ্ছায় এ সিদ্ধান্ত নিতে চান। হাফিজাকে জীবনসঙ্গী করে সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
এদিকে, চীনা নাগরিকের বাংলাদেশে আসার খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা-পুলিশ হাফিজাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। পাশাপাশি, বিদেশি এই নাগরিক যাতে কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।