স্টাফ রিপোর্টার | মীর মো: রাকিব হাসান
বগুড়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে বগুড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিট চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বরাতে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বগুড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৩৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ২৭৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮১ জন। এ সময়ে দুজনের মৃত্যুর তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকাশের আগে এসব পরিসংখ্যান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিট
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ১৪ অক্টোবর থেকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনাকালীন প্রস্তুত করা একটি ওয়ার্ড ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাঁদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকটের কথাও উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে ভিন্নমত
নগরের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের কেউ কেউ মশার উপদ্রব এবং মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, কিছু এলাকায় মশা নিধনের কার্যক্রম আরও নিয়মিত হলে জনভোগান্তি কমতে পারে।
তবে বগুড়া পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে হ্যান্ড মেশিনের মাধ্যমে মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণ এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে উড়ন্ত মশা নিধনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, গত এক মাস ধরে প্রতিদিন এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝরের বক্তব্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার এবং মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।
নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কার্যক্রমও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।




















