সরকার শাহাদত হোসেন
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বাবার সম্পত্তির ভাগ না পাওয়ার অভিযোগে এক বিঘা জমি বুঝে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মেয়ে হালিমা বেওয়া। এ নিয়ে বিরোধের জেরে নির্ধারিত সময়ে বাবার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারিত থাকলেও বিকেল ৩টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল বৃদ্ধ নাজির উদ্দিনের মরদেহ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালীদহ গ্রামের বাসিন্দা নাজির উদ্দিন পেশায় কৃষক ছিলেন। গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর এক ছেলে ইদ্রিস আলী (৪৮) ও এক মেয়ে হালিমা বেওয়া (৫০) রয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাজির উদ্দিন জীবদ্দশায় তাঁর সম্পত্তি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। সোমবার সকাল ১০টায় তাঁর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে উপস্থিত হন। তবে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধের জেরে জানাজা অনুষ্ঠানে আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা বেওয়া।
হালিমা বেওয়ার অভিযোগ, তাঁর বাবা জীবিত থাকাকালে কৌশলে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নিজের ভাগের এক বিঘা জমি বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার জানাজা হতে দেবেন না বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, নাজির উদ্দিনের ছেলে ইদ্রিস আলীর দাবি, তাঁর বাবা স্বেচ্ছায় তাঁকে জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। ওই সম্পত্তিতে তাঁর বোনের কোনো ভাগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, জানাজায় অংশ নিতে আসা স্থানীয় লোকজন বিরোধ মেটাতে সমঝোতার চেষ্টা করেন। তবে তাতে কোনো সমাধান হয়নি। ফলে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত নাজির উদ্দিনের মরদেহ বাড়ির উঠানেই পড়ে থাকে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. রওশন আক্তার সোমবার বিকেল ৩টার দিকে মুঠোফোনে জানান, নাজির উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রোববার বিকেল ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধের কারণে তা আটকে যায়।
এ বিষয়ে ধাপেরহাট তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক এস্তেখার হাসান বলেন, এ ঘটনায় মৌখিক অভিযোগ নিয়ে এক ব্যক্তি তদন্তকেন্দ্রে এসেছিলেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল। পরে তিনি আর আসেননি।
বিজ্ঞাপন




















