রংপুরের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ নেই, জবাবদিহি নিশ্চিত করব: মাহফুজ উন নবী ডন

রংপুরের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ নেই, জবাবদিহি নিশ্চিত করব: মাহফুজ উন নবী ডন
আনোয়ারুল ইসলাম রনি রংপুর :

রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) উন্নয়নে ১ হাজার ৮১২ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এই বরাদ্দের আওতায় বাস্তবায়ন করা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা, কাজের মান ও শতভাগ জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন রসিকের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন।
তিনি বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নে শতভাগ জবাবদিহি নিশ্চিত করব।”
সোমবার বিকেলে নগরীর টাউন হল মাঠে আয়োজিত এক ‘কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো দ্রুত শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রকল্পের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন পর্যন্ত স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। প্রকল্পের অগ্রগতিও জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে, পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হবে। এ ছাড়া বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রংপুরের জন্য এত বড় বরাদ্দ কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কৃতিত্ব নয়; বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত ও অবহেলিত নগরবাসীর প্রত্যাশার প্রতিফলন। অতীতের উন্নয়নবঞ্চনা কাটিয়ে উত্তরাঞ্চল তথা রংপুর বিভাগ এখন উন্নয়নের মূলধারায় অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকার শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, বরং সারা দেশে সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী।
এ সময় রংপুরের মানুষের পক্ষ থেকে বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি সরকার, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং একনেকের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, এ বরাদ্দের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন, পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রংপুরকে একটি আধুনিক ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের সময় সাময়িক দুর্ভোগের জন্য নগরবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেন দখলমুক্ত রাখা, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং উন্নয়নকাজের মান নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অনুরোধ জানান। রংপুরের সার্বিক উন্নয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সব দলের নেতাকর্মী ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
নিজের বক্তব্যে মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, এই বরাদ্দকে তিনি উন্নয়নের সমাপ্তি নয়, বরং একটি নতুন যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে রংপুরের জন্য আরও উন্নয়ন প্রকল্প আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি নগরবাসীর দোয়া, সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাওসার রহমান বাবলা, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর আরজানা সালেক, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহানগর কমিটির সভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শঙ্কর গুহ রায়, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন এবং সদস্যসচিব আতিকুল ইসলাম লেলিন। এ ছাড়া বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
মন্ত্রীর ডিও লেটারে রংপুরের প্রকল্প লালমনিরহাটে নেওয়ার উদ্যোগ, উঠছে বৈষম্যের প্রশ্ন

মন্ত্রীর ডিও লেটারে রংপুরের প্রকল্প লালমনিরহাটে নেওয়ার উদ্যোগ, উঠছে বৈষম্যের প্রশ্ন

রংপুরের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ নেই, জবাবদিহি নিশ্চিত করব: মাহফুজ উন নবী ডন

আপডেট সময় : ১০:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
আনোয়ারুল ইসলাম রনি রংপুর :

রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) উন্নয়নে ১ হাজার ৮১২ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এই বরাদ্দের আওতায় বাস্তবায়ন করা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা, কাজের মান ও শতভাগ জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন রসিকের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন।
তিনি বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নে শতভাগ জবাবদিহি নিশ্চিত করব।”
সোমবার বিকেলে নগরীর টাউন হল মাঠে আয়োজিত এক ‘কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো দ্রুত শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রকল্পের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন পর্যন্ত স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। প্রকল্পের অগ্রগতিও জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে, পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হবে। এ ছাড়া বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রংপুরের জন্য এত বড় বরাদ্দ কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কৃতিত্ব নয়; বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত ও অবহেলিত নগরবাসীর প্রত্যাশার প্রতিফলন। অতীতের উন্নয়নবঞ্চনা কাটিয়ে উত্তরাঞ্চল তথা রংপুর বিভাগ এখন উন্নয়নের মূলধারায় অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকার শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, বরং সারা দেশে সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী।
এ সময় রংপুরের মানুষের পক্ষ থেকে বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি সরকার, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং একনেকের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, এ বরাদ্দের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন, পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রংপুরকে একটি আধুনিক ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের সময় সাময়িক দুর্ভোগের জন্য নগরবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেন দখলমুক্ত রাখা, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং উন্নয়নকাজের মান নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অনুরোধ জানান। রংপুরের সার্বিক উন্নয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সব দলের নেতাকর্মী ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
নিজের বক্তব্যে মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, এই বরাদ্দকে তিনি উন্নয়নের সমাপ্তি নয়, বরং একটি নতুন যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে রংপুরের জন্য আরও উন্নয়ন প্রকল্প আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি নগরবাসীর দোয়া, সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাওসার রহমান বাবলা, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর আরজানা সালেক, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহানগর কমিটির সভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শঙ্কর গুহ রায়, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন এবং সদস্যসচিব আতিকুল ইসলাম লেলিন। এ ছাড়া বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
বিজ্ঞাপন