নেত্রকোনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে 

নেত্রকোনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে 
নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে ওঠেছে।চার সপ্তাহ ধরে নেত্রকোনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পদটি শূন্য রয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্য জেলার একজন কর্মকর্তাকে। নিজের দায়িত্বের সাথে নেত্রকোনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নেত্রকোনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক না থাকায় অফিসিয়াল কার্যক্রম, খাদ্যশস্য স্থানান্তর ও চালকল মালিকদের জামানতের টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন কাজে জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ‌বলে জানান তারা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ১৪টি খাদ্যগুদাম আছে। সরকার এসব গুদামের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ধান-চাল সংগ্রহ করে থাকেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল কাবির খানকে নেত্রকোনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে পদায়ন করা হয়। একই আদেশে নেত্রকোনার তৎকালীন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোয়েতাছিমুর রহমানকে ঢাকার সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়।
এদিকে কিশোরগঞ্জের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলমগীর কবীরকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি আড়াই মাসের প্রশিক্ষণে যাওয়ার পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শেরপুরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়াকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এ ছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিজিডি, ভিজিএফ ও খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমের পাশাপাশি খাদ্যগুদাম থেকে খাদ্যশস্য স্থানান্তরের কাজেও এ কার্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা খাদ্য বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, অফিস ও জনগণ ভীষণ সমস্যার শিকার।পূর্ণাঙ্গ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক না থাকায় বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিলম্ব হচ্ছে।
অপরদিকে সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদও এক মাসের বেশি সময় ধরে শূন্য পড়ে আছে। খাদ্য সংগ্রহ অভিযানে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ওই গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে কলমাকান্দা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাদী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিরিশিরি খাদ্যগুদামের দায়িত্ব পালন করছেন।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শেরপুরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমার কর্মস্থলের পাশাপাশি আরেকটি জেলার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
নেত্রকোনায় পদায়ন করা কর্মকর্তা সাইফুল কাবির খান বলেন, সমস্যার জন্য কর্মস্থলে যোগ দিতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। আশা করি, আগামী সপ্তাহে যোগ দিতে পারবো।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলম বলেন, সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তর একজন কর্মকর্তাকে নেত্রকোনায় পদায়ন করেছে। কিন্তু তিনি এখনো সেখানে যোগ দেননি। এতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত 

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত 

নেত্রকোনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে 

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে ওঠেছে।চার সপ্তাহ ধরে নেত্রকোনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পদটি শূন্য রয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্য জেলার একজন কর্মকর্তাকে। নিজের দায়িত্বের সাথে নেত্রকোনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নেত্রকোনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক না থাকায় অফিসিয়াল কার্যক্রম, খাদ্যশস্য স্থানান্তর ও চালকল মালিকদের জামানতের টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন কাজে জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ‌বলে জানান তারা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ১৪টি খাদ্যগুদাম আছে। সরকার এসব গুদামের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ধান-চাল সংগ্রহ করে থাকেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল কাবির খানকে নেত্রকোনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে পদায়ন করা হয়। একই আদেশে নেত্রকোনার তৎকালীন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোয়েতাছিমুর রহমানকে ঢাকার সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়।
এদিকে কিশোরগঞ্জের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলমগীর কবীরকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি আড়াই মাসের প্রশিক্ষণে যাওয়ার পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শেরপুরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়াকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এ ছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিজিডি, ভিজিএফ ও খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমের পাশাপাশি খাদ্যগুদাম থেকে খাদ্যশস্য স্থানান্তরের কাজেও এ কার্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা খাদ্য বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, অফিস ও জনগণ ভীষণ সমস্যার শিকার।পূর্ণাঙ্গ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক না থাকায় বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিলম্ব হচ্ছে।
অপরদিকে সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদও এক মাসের বেশি সময় ধরে শূন্য পড়ে আছে। খাদ্য সংগ্রহ অভিযানে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ওই গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে কলমাকান্দা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাদী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিরিশিরি খাদ্যগুদামের দায়িত্ব পালন করছেন।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শেরপুরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমার কর্মস্থলের পাশাপাশি আরেকটি জেলার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
নেত্রকোনায় পদায়ন করা কর্মকর্তা সাইফুল কাবির খান বলেন, সমস্যার জন্য কর্মস্থলে যোগ দিতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। আশা করি, আগামী সপ্তাহে যোগ দিতে পারবো।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলম বলেন, সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তর একজন কর্মকর্তাকে নেত্রকোনায় পদায়ন করেছে। কিন্তু তিনি এখনো সেখানে যোগ দেননি। এতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন