মধ্যনগরে মরণফাঁদে পরিণত আমানিপুরের ব্রিজ, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার শত শত শিক্ষার্থীর

মধ্যনগরে মরণফাঁদে পরিণত আমানিপুরের ব্রিজ, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার শত শত শিক্ষার্থীর
বিশেষ প্রতিনিধি:শফিকুল ইসলাম শফিক
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ২ নং দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের আমানিপুর গ্রামের একমাত্র ব্রিজটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ব্রিজের দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের দুই পাশে মাটি না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্তের। ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে পথচারীদের। প্রায়ই ব্রিজ পার হতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
দাতিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শাহিরুল ইসলাম আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি প্রতিদিন দেখি আমার ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে এই ভাঙা ব্রিজ পার হয়। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যায়, বই-খাতা কাদায় ভিজে যায়। একজন শিক্ষক হিসেবে এই দৃশ্য আর সহ্য হয় না। আমি মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আমাদের বাচ্চাদের জন্য ব্রিজটি ঠিক করে দিন।”
দাতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ধনঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, “আমার স্কুলের অনেক ছাত্রী এই ব্রিজের ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের কোমলমতি শিশুরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় যদি একবার এসে দেখতেন, তাহলে বুঝতেন আমাদের কষ্টটা কতটা গভীর।”
বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাইনুদ্দিন বলেন, “ব্রিজের দুই পাশে মাটি না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আমরা সুনামগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল মহোদয় এবং মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করা হোক।”
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা নরেশ বিশ্বাস, আরব আলী ও আমানিপুর বিএনপির গ্রাম কমিটির সভাপতি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন,“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। যেহেতু এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত ব্যথা পাচ্ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটছে, তাই আমরা দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এলাকাবাসীর আকুল আবেদন, মাননীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ও উপজেলা প্রশাসন যেন দ্রুত ব্রিজটি পরিদর্শন করে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
রাজারহাটে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ‘বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’, দাবি অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের

রাজারহাটে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ‘বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’, দাবি অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের

মধ্যনগরে মরণফাঁদে পরিণত আমানিপুরের ব্রিজ, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার শত শত শিক্ষার্থীর

আপডেট সময় : ০৩:২৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধি:শফিকুল ইসলাম শফিক
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ২ নং দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের আমানিপুর গ্রামের একমাত্র ব্রিজটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ব্রিজের দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের দুই পাশে মাটি না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্তের। ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে পথচারীদের। প্রায়ই ব্রিজ পার হতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
দাতিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শাহিরুল ইসলাম আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি প্রতিদিন দেখি আমার ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীরা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে এই ভাঙা ব্রিজ পার হয়। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যায়, বই-খাতা কাদায় ভিজে যায়। একজন শিক্ষক হিসেবে এই দৃশ্য আর সহ্য হয় না। আমি মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আমাদের বাচ্চাদের জন্য ব্রিজটি ঠিক করে দিন।”
দাতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ধনঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, “আমার স্কুলের অনেক ছাত্রী এই ব্রিজের ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের কোমলমতি শিশুরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় যদি একবার এসে দেখতেন, তাহলে বুঝতেন আমাদের কষ্টটা কতটা গভীর।”
বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাইনুদ্দিন বলেন, “ব্রিজের দুই পাশে মাটি না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আমরা সুনামগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল মহোদয় এবং মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করা হোক।”
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা নরেশ বিশ্বাস, আরব আলী ও আমানিপুর বিএনপির গ্রাম কমিটির সভাপতি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন,“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। যেহেতু এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত ব্যথা পাচ্ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটছে, তাই আমরা দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এলাকাবাসীর আকুল আবেদন, মাননীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ও উপজেলা প্রশাসন যেন দ্রুত ব্রিজটি পরিদর্শন করে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
বিজ্ঞাপন