গাইবান্ধা শহর যেন যানজটের নগরী রেলগেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা; ফ্লাইওভার ও বাইপাস সড়কের দাবি জোরালো

গাইবান্ধা শহর যেন যানজটের নগরী রেলগেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা; ফ্লাইওভার ও বাইপাস সড়কের দাবি জোরালো
সরকার শাহাদত হোসেন,
গাইবান্ধা শহরে দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে যানজট। রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের এক নম্বর রেলগেট, দুই নম্বর রেলগেট, জেলা পরিষদ এলাকা, সদর থানা মোড়, ডাকবাংলা মোড়, হকার্স মার্কেট, বাস টার্মিনাল ও সরকারি কলেজ সড়কজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং পরিবহন শ্রমিকরা।
সকালে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী মানুষের চাপ শুরু হওয়ার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিশেষ করে এক নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ডাকবাংলা মোড়, সাদুল্লাপুর হকার্স মার্কেট হয়ে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে জেলা পরিষদ চত্বর থেকে দুই নম্বর রেলগেট হয়ে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কেও দিনের বেশিরভাগ সময় যানবাহনের ধীরগতি ও দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। সদর থানা মোড়, বিএনপি অফিসের সামনের সড়ক এবং পুরাতন ব্রিজের পোস্ট অফিস এলাকাতেও বারবার যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, শহরের জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সড়ক অবকাঠামো সেই অনুপাতে উন্নত হয়নি। বিশেষ করে বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণে অনেকেই জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজি চালনায় যুক্ত হয়েছেন। ফলে শহরে ছোট যানবাহনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। কিন্তু যানজটের কারণে চালকদের দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হওয়ায় তাদের প্রত্যাশিত আয়ও হচ্ছে না।
অটোরিকশা চালকরা জানান, রেলগেট ও জেলা পরিষদ এলাকার যানজটে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে একদিকে জ্বালানি ও সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে যাত্রীদের বিরক্তিরও মুখোমুখি হতে হয়।
নগরবাসীর অভিযোগ, গাইবান্ধার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। ব্যস্ততম সময়গুলোতে কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাবে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। অনেকেই মনে করছেন, পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারির অভাবে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে প্রতিদিনই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
যানজটের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রেলগেট। গাইবান্ধা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রেলক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩টি লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল করে। ট্রেন চলাচলের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে রেলগেট বন্ধ রাখতে হয়। ফলে দুই পাশে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে যানজট ছড়িয়ে পড়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বাস টার্মিনাল ও শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।
সচেতন মহলের মতে, গাইবান্ধা শহরের যানজট নিরসনে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে রেলগেটের ওপর একটি আধুনিক ফ্লাইওভার নির্মাণ। এতে ট্রেন চলাচলের সময়ও সড়ক যোগাযোগ সচল রাখা সম্ভব হবে এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাবিকৃত কাউয়া চত্বর হয়ে ভিভিট, কোম্পানি পর্যন্ত একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবিও নতুন করে জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বাইপাস সড়ক বাস্তবায়িত হলে দূরপাল্লার ও ভারী যানবাহনগুলো শহরের ভেতরে প্রবেশ না করে বিকল্প পথে চলাচল করতে পারবে। এতে শহরের প্রধান সড়কের ওপর চাপ কমবে এবং যানজট উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
ব্যবসায়ী, পরিবহন চালক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, গাইবান্ধা এখন আর ছোট শহরের সীমায় নেই। জেলার অর্থনীতি, শিক্ষা ও যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে শহরটির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তাই সময়ের দাবি মেনে রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণ, বাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে গাইবান্ধাকে যানজটমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। কারণ যানজট শুধু সময়ের অপচয় নয়, এটি শহরের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গাইবান্ধাবাসীর এখন একটাই দাবি—রেলগেটে ফ্লাইওভার ও শহর ঘিরে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে যানজটের সমাধান করা হোক।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
উল্লাপাড়ায় মালচিং পদ্ধতিতে হচ্ছে খিরা আবাদ বায়োডিগ্রেডেবল পদ্ধতি ব্যবহারে দেওয়া হচ্ছে উৎসাহ

উল্লাপাড়ায় মালচিং পদ্ধতিতে হচ্ছে খিরা আবাদ বায়োডিগ্রেডেবল পদ্ধতি ব্যবহারে দেওয়া হচ্ছে উৎসাহ

গাইবান্ধা শহর যেন যানজটের নগরী রেলগেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা; ফ্লাইওভার ও বাইপাস সড়কের দাবি জোরালো

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
সরকার শাহাদত হোসেন,
গাইবান্ধা শহরে দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে যানজট। রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের এক নম্বর রেলগেট, দুই নম্বর রেলগেট, জেলা পরিষদ এলাকা, সদর থানা মোড়, ডাকবাংলা মোড়, হকার্স মার্কেট, বাস টার্মিনাল ও সরকারি কলেজ সড়কজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং পরিবহন শ্রমিকরা।
সকালে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী মানুষের চাপ শুরু হওয়ার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিশেষ করে এক নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ডাকবাংলা মোড়, সাদুল্লাপুর হকার্স মার্কেট হয়ে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে জেলা পরিষদ চত্বর থেকে দুই নম্বর রেলগেট হয়ে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কেও দিনের বেশিরভাগ সময় যানবাহনের ধীরগতি ও দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। সদর থানা মোড়, বিএনপি অফিসের সামনের সড়ক এবং পুরাতন ব্রিজের পোস্ট অফিস এলাকাতেও বারবার যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, শহরের জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সড়ক অবকাঠামো সেই অনুপাতে উন্নত হয়নি। বিশেষ করে বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণে অনেকেই জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজি চালনায় যুক্ত হয়েছেন। ফলে শহরে ছোট যানবাহনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। কিন্তু যানজটের কারণে চালকদের দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হওয়ায় তাদের প্রত্যাশিত আয়ও হচ্ছে না।
অটোরিকশা চালকরা জানান, রেলগেট ও জেলা পরিষদ এলাকার যানজটে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে একদিকে জ্বালানি ও সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে যাত্রীদের বিরক্তিরও মুখোমুখি হতে হয়।
নগরবাসীর অভিযোগ, গাইবান্ধার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। ব্যস্ততম সময়গুলোতে কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাবে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। অনেকেই মনে করছেন, পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারির অভাবে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে প্রতিদিনই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
যানজটের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রেলগেট। গাইবান্ধা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রেলক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩টি লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল করে। ট্রেন চলাচলের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে রেলগেট বন্ধ রাখতে হয়। ফলে দুই পাশে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে যানজট ছড়িয়ে পড়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বাস টার্মিনাল ও শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।
সচেতন মহলের মতে, গাইবান্ধা শহরের যানজট নিরসনে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে রেলগেটের ওপর একটি আধুনিক ফ্লাইওভার নির্মাণ। এতে ট্রেন চলাচলের সময়ও সড়ক যোগাযোগ সচল রাখা সম্ভব হবে এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাবিকৃত কাউয়া চত্বর হয়ে ভিভিট, কোম্পানি পর্যন্ত একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবিও নতুন করে জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বাইপাস সড়ক বাস্তবায়িত হলে দূরপাল্লার ও ভারী যানবাহনগুলো শহরের ভেতরে প্রবেশ না করে বিকল্প পথে চলাচল করতে পারবে। এতে শহরের প্রধান সড়কের ওপর চাপ কমবে এবং যানজট উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
ব্যবসায়ী, পরিবহন চালক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, গাইবান্ধা এখন আর ছোট শহরের সীমায় নেই। জেলার অর্থনীতি, শিক্ষা ও যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে শহরটির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তাই সময়ের দাবি মেনে রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণ, বাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে গাইবান্ধাকে যানজটমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। কারণ যানজট শুধু সময়ের অপচয় নয়, এটি শহরের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গাইবান্ধাবাসীর এখন একটাই দাবি—রেলগেটে ফ্লাইওভার ও শহর ঘিরে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে যানজটের সমাধান করা হোক।
বিজ্ঞাপন