মাসুদ রানা মনি, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর)প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্রটি হলো রামগঞ্জ শিশু পার্ক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার কারণে পার্কটি এখন ময়লা আবর্জনা ও ঝোপ জঙ্গলে ভরে গোচরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।রামগঞ্জ পৌরসভার বাইপাস সড়কের ডাকবাংলা সংলগ্ন এলাকায় শিশু কিশোর ও স্থানীয় জনসাধারণের চিত্ত বিনোদনের জন্য নির্মিত হয় একমাত্র শিশু পার্কটি।ময়লা আবর্জনা নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও কোন ধরনের খেলনা ও রাই্ডিং বিহীন এ শিশু পার্ক টি এখন মানুষের হাস্যরসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা যায় ২০০৫ইং সনে সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত জিয়াউল হক জিয়া রামগঞ্জ শিশু পার্ক টি প্রতিষ্ঠা করেন। লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ এ পার্ক নির্মাণে অর্থায়ন করেন। উপজেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র রামগঞ্জ শিশু পার্ক হয়ে ওঠে উপজেলাবাসীর বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র। দূর দূরান্ত থেকে সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিল এলাকাটি। স্থানীয় কিছু লোক শিশু পার্কটি ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখেন।বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে রাতারাতি। বিভিন্ন সময় দলীয় সভা সমাবেশ ও মেলার আয়োজন করার কারণে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত রামগঞ্জ শিশু পার্কটির ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে মাদক সেবীরা পার্কটির সকল প্রকার রাইড খেলনা ও বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র খুলে নিয়ে বিক্রি করে দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি নেই। নেই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোন ব্যবস্থা। পার্কটির ভেতরর চারপাশে ঝোপ জঙ্গল আর ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলা গরু ছাগলের চারণ ভূমি,, যুবকদের খেলার মাঠ, গাড়ির গ্যারেজ ও রাতে মাদক সেবীদের আড্ডা খানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে পার্কটি।বর্ষাকালে কাদা আর গ্রীষ্মকালের ধুলোবালিতে পার্কটির অবস্থা বেহাল। এছাড়া স্থানীয় লোকজন পার্কটির দেওয়াল ঘেঁষে নির্মাণ সামগ্রী ময়লা আবর্জনা স্তুপ করে রাখায় ধুলিবালু ও নোংরা পরিবেশ যেন বিষিয়ে তুলেছে পার্কটির পরিবেশ। বিভিন্ন সময় পার্ক নিয়ে লেখালেখি ও আবেদনে সাড়া দিয়ে আওয়ামীলীগ সরকারের তৎকালীন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রয়াত আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান পার্কটি শেখ রাসেল শিশু পার্ক নাম দিয়ে সংস্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা অজ্ঞাত কারণে থেমে যায়।
জানা গেছে ২৫ সালের ১৪ই অক্টোবর তৎকালীন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মরহুম জিয়াউল হক জিয়া পার্কটি প্রতিষ্ঠার পর পার্কের ভিতরে নির্মাণ করা হয় পাকা বেঞ্চ, দোলনা, লেক,লোহার ব্রিজ সহ শিশুদের বিভিন্ন খেলার সামগ্রী। সেই সাথে পার্কটিতে বিভিন্ন জাতের ফুল ফল ও কাঠগাছ লাগানো হয়। বর্তমানে পার্কে লাগানো লাখ লাখ টাকার ফুল ফল ও কাঠ গাছগুলোর অস্তিত্ব নেই।
রক্ষণাবেক্ষণ এর অভাবে পার্কের অস্তিত্ব এখন বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয় বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুশীল সমাজ বিভিন্ন শ্রেণী পেশাজীবীর লোকজন পার্কটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ২০২০ সনে পার্কের দেওয়ালে কারুকার্য, নতুন তোরণ নির্মাণ ও দুটি স্থায়ী ড্রাগন নির্মাণ করেন। আশার আলো দেখতে পায় সব শ্রেনি পেশার মানুষ, কিন্তু দেওয়ালে কারুকাজ করেই ক্ষ্যন্ত হয়ে যায় পার্কটির সংস্কার কাজ নিমিষেই নিভে যায় সব আশার আলো। তাই এখন সবাই বলে উপরে ফিটফাট ভিতরে ফাঁকা মাঠ।





















