চিতলমারীতে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দের ঘর বিক্রির অভিযোগ

চিতলমারীতে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দের ঘর বিক্রির অভিযোগ

মো:মাহিদুল ইসলাম (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের চিতলমারীতে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দের একটি ঘর বাড়ির জায়গাসহ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার দলুয়াগুনি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকারকে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের সরকারি বরাদ্দের ঘর হস্তান্তর বা বিক্রি করার সুযোগ নেই। তবে বরাদ্দ পাওয়া ওই ঘরটি বাড়ির জায়গাসহ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় চিতলমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আবাসন নির্মাণ কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তালেব শেখ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে যা দেখা গেল

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে দলুয়াগুনি গ্রামের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকার বা তার পরিবারের কোনো সদস্য সেখানে অবস্থান করছেন না। বর্তমানে রিপন শেখ নামে এক ব্যক্তি ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। বাড়িটির সামনে থাকা ‘মুক্তিযোদ্ধা নিবাস’ লেখা নেমপ্লেটটিও আর দেখা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিমল কৃষ্ণ সরকার বর্তমানে টুঙ্গিপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন। তবে তিনি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বাড়িটি বিক্রি করেছেন, সে বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে।

বাড়িটির বর্তমান বাসিন্দা ও ক্রেতা রিপন শেখ জানান, তিনি ৮ শতক জায়গাসহ বাড়িটি কিনে নিয়েছেন। তার কাছে বাড়িটির দলিল রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

চিতলমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আবাসন নির্মাণ কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তালেব শেখ বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকারকে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পের একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেটি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি বরাদ্দের এসব ঘর বিক্রি করার কোনো বিধান নেই। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।”

অভিযোগের বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করে কেটে দেন। পরে তার পক্ষ থেকে অন্য একজন ফোন করে জানান, বিমল কৃষ্ণ সরকার অসুস্থ থাকায় বর্তমানে এ বিষয়ে কথা বলতে পারছেন না।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
দেশের আইনে বিশ্বাস করি না, এ ব্যাপারে আমি নাস্তিক : সালমান

দেশের আইনে বিশ্বাস করি না, এ ব্যাপারে আমি নাস্তিক : সালমান

চিতলমারীতে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দের ঘর বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:২৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মো:মাহিদুল ইসলাম (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের চিতলমারীতে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দের একটি ঘর বাড়ির জায়গাসহ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার দলুয়াগুনি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকারকে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের সরকারি বরাদ্দের ঘর হস্তান্তর বা বিক্রি করার সুযোগ নেই। তবে বরাদ্দ পাওয়া ওই ঘরটি বাড়ির জায়গাসহ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় চিতলমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আবাসন নির্মাণ কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তালেব শেখ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে যা দেখা গেল

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে দলুয়াগুনি গ্রামের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকার বা তার পরিবারের কোনো সদস্য সেখানে অবস্থান করছেন না। বর্তমানে রিপন শেখ নামে এক ব্যক্তি ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। বাড়িটির সামনে থাকা ‘মুক্তিযোদ্ধা নিবাস’ লেখা নেমপ্লেটটিও আর দেখা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিমল কৃষ্ণ সরকার বর্তমানে টুঙ্গিপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন। তবে তিনি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বাড়িটি বিক্রি করেছেন, সে বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে।

বাড়িটির বর্তমান বাসিন্দা ও ক্রেতা রিপন শেখ জানান, তিনি ৮ শতক জায়গাসহ বাড়িটি কিনে নিয়েছেন। তার কাছে বাড়িটির দলিল রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

চিতলমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আবাসন নির্মাণ কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তালেব শেখ বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকারকে মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পের একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেটি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি বরাদ্দের এসব ঘর বিক্রি করার কোনো বিধান নেই। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।”

অভিযোগের বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল কৃষ্ণ সরকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করে কেটে দেন। পরে তার পক্ষ থেকে অন্য একজন ফোন করে জানান, বিমল কৃষ্ণ সরকার অসুস্থ থাকায় বর্তমানে এ বিষয়ে কথা বলতে পারছেন না।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।