উচ্চ মুনাফার ফাঁদে শত মানুষ, ৭ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত হাফিজ গ্রেপ্তার

উচ্চ মুনাফার ফাঁদে শত মানুষ, ৭ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত হাফিজ গ্রেপ্তার
আনোয়ারুল ইসলাম রনি রংপুর:
ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে সেই টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাফিজুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে। রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পাওটানা এলাকা থেকে হাফিজুর রহমান মুকুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের সদরা তালুক গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে
শিক্ষকদের মাধ্যমে আস্থা তৈরির অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাফিজুর রহমান মুকুলের অর্থ সংগ্রহের কৌশলের একটি অংশ ছিল সমাজের পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যবসার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি করা।
তাদের দাবি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, প্রভাষক, মাওলানা ও পরিচিত ব্যক্তিদের প্রথমে তার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করা হতো। পরে তাদের পরিচিতজন ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে ব্যবসার প্রচার করে নতুন বিনিয়োগকারী সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সমাজে পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিরা ব্যবসাটির সঙ্গে যুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে নিরাপদ মনে করতেন। এরপর তাদের রেফারেন্স ব্যবহার করে আরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগে আগ্রহী করা হতো।
অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে একের পর এক নতুন ব্যক্তি ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ হিসেবে নেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর অনেকেই তাদের মূল টাকা বা প্রতিশ্রুত মুনাফা ফেরত পাননি। পরে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে হাফিজুর রহমান মুকুল কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পথে বসেছেন অনেকে
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাফিজুর রহমান মুকুলের কাছে অর্থ দিয়ে এখন অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। কেউ জমি বিক্রি করে পাওয়া টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন, আবার কেউ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই টাকা তার হাতে তুলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, বিনিয়োগের টাকা ফেরত না পাওয়ায় এখন অনেকেই একদিকে ঋণের কিস্তির চাপ, অন্যদিকে সংসারের খরচ চালানোর সংকটে পড়েছেন। কেউ ঋণের বোঝা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। আবার কারও দাবি, অর্থ হারানোর পর সংসারে নেমে এসেছে চরম অশান্তি। কেউ কেউ ঋণের চাপে বাড়ি ও পরিবার ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হাফিজুর রহমান মুকুলের কাছে টাকা দিয়ে শুধু তাদের আর্থিক ক্ষতিই হয়নি, অনেক পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারও সঞ্চয় শেষ হয়েছে, কারও জমি বিক্রির অর্থ হারিয়েছে, আবার কেউ ঋণ নিয়ে সেই অর্থ পরিশোধ করতে না পেরে আরও বড় সংকটে পড়েছেন।
তাদের অভিযোগ, উচ্চ মুনাফার আশায় বিশ্বাস করে দেওয়া অর্থ ফেরত না পাওয়ায় এখন অনেক পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে তাদের অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হোক।
রংপুরে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
রংপুরের বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মিঠাপুকুর উপজেলার হাসিব নামে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে তার কাছ থেকে জমি বিক্রির প্রায় ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
মেকুরা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক মুজাহিদুল ইসলাম রেজার অভিযোগ, ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকেও প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
পীরগঞ্জের আসাদউদ্দৌলা নামে আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
জাকির হোসেন নামে আরেক ব্যক্তির দাবি, তার কাছ থেকে এবং তার মাধ্যমে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ১২ লাখ টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী আহসান হাবিবের অভিযোগ, ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে তার কাছ থেকেও ১ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে ওই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজনের অভিযোগ, রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও লালমনিরহাটেও অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জেও শরীফ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে ব্যবসায় বিনিয়োগের অর্থ সংগ্রহ করে তা হাফিজুর রহমান মুকুলের কাছে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে।
এ ছাড়া লালমনিরহাট সদরের একটি স্থানীয় এনজিওর সদস্যদের কাছ থেকেও উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবসার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ নেওয়ার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন হাফিজুর রহমান মুকুল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে উঠে এসেছে, ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ, উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-মাওলানাসহ পরিচিত ব্যক্তিদের রেফারেন্স ব্যবহার করে মানুষের আস্থা অর্জন করা হতো। এরপর তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
অর্থ ফেরত না পাওয়ার পর একাধিক ব্যক্তি আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
অর্থ উদ্ধারের দাবি ভুক্তভোগীদের
ভুক্তভোগীদের দাবি, হাফিজুর রহমান মুকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া অর্থের হিসাব ও লেনদেনের পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের অর্থ উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, আত্মসাতের অভিযোগ থাকা অর্থ বিভিন্ন কারেন্সিতে রূপান্তর করে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ তথ্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সাত মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, “তার নামে সাতটি ওয়ারেন্ট আছে। আমরা তাকে আদালতে সোপর্দ করেছি।”
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর হাফিজুর রহমান মুকুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং অর্থ লেনদেনের প্রকৃত ঘটনা নির্ধারিত হবে।
ট্যাগ
জনপ্রিয়
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দিনাজপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দিনাজপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

উচ্চ মুনাফার ফাঁদে শত মানুষ, ৭ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত হাফিজ গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৯:১৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আনোয়ারুল ইসলাম রনি রংপুর:
ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে সেই টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাফিজুর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে। রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পাওটানা এলাকা থেকে হাফিজুর রহমান মুকুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের সদরা তালুক গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে
শিক্ষকদের মাধ্যমে আস্থা তৈরির অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাফিজুর রহমান মুকুলের অর্থ সংগ্রহের কৌশলের একটি অংশ ছিল সমাজের পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যবসার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি করা।
তাদের দাবি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, প্রভাষক, মাওলানা ও পরিচিত ব্যক্তিদের প্রথমে তার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করা হতো। পরে তাদের পরিচিতজন ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে ব্যবসার প্রচার করে নতুন বিনিয়োগকারী সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সমাজে পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিরা ব্যবসাটির সঙ্গে যুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে নিরাপদ মনে করতেন। এরপর তাদের রেফারেন্স ব্যবহার করে আরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগে আগ্রহী করা হতো।
অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে একের পর এক নতুন ব্যক্তি ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ হিসেবে নেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর অনেকেই তাদের মূল টাকা বা প্রতিশ্রুত মুনাফা ফেরত পাননি। পরে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে হাফিজুর রহমান মুকুল কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পথে বসেছেন অনেকে
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাফিজুর রহমান মুকুলের কাছে অর্থ দিয়ে এখন অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। কেউ জমি বিক্রি করে পাওয়া টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন, আবার কেউ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই টাকা তার হাতে তুলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, বিনিয়োগের টাকা ফেরত না পাওয়ায় এখন অনেকেই একদিকে ঋণের কিস্তির চাপ, অন্যদিকে সংসারের খরচ চালানোর সংকটে পড়েছেন। কেউ ঋণের বোঝা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। আবার কারও দাবি, অর্থ হারানোর পর সংসারে নেমে এসেছে চরম অশান্তি। কেউ কেউ ঋণের চাপে বাড়ি ও পরিবার ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হাফিজুর রহমান মুকুলের কাছে টাকা দিয়ে শুধু তাদের আর্থিক ক্ষতিই হয়নি, অনেক পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারও সঞ্চয় শেষ হয়েছে, কারও জমি বিক্রির অর্থ হারিয়েছে, আবার কেউ ঋণ নিয়ে সেই অর্থ পরিশোধ করতে না পেরে আরও বড় সংকটে পড়েছেন।
তাদের অভিযোগ, উচ্চ মুনাফার আশায় বিশ্বাস করে দেওয়া অর্থ ফেরত না পাওয়ায় এখন অনেক পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে তাদের অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হোক।
রংপুরে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
রংপুরের বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মিঠাপুকুর উপজেলার হাসিব নামে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে তার কাছ থেকে জমি বিক্রির প্রায় ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
মেকুরা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক মুজাহিদুল ইসলাম রেজার অভিযোগ, ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকেও প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
পীরগঞ্জের আসাদউদ্দৌলা নামে আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
জাকির হোসেন নামে আরেক ব্যক্তির দাবি, তার কাছ থেকে এবং তার মাধ্যমে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ১২ লাখ টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী আহসান হাবিবের অভিযোগ, ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে তার কাছ থেকেও ১ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে ওই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজনের অভিযোগ, রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও লালমনিরহাটেও অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জেও শরীফ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে ব্যবসায় বিনিয়োগের অর্থ সংগ্রহ করে তা হাফিজুর রহমান মুকুলের কাছে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে।
এ ছাড়া লালমনিরহাট সদরের একটি স্থানীয় এনজিওর সদস্যদের কাছ থেকেও উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবসার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ নেওয়ার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন হাফিজুর রহমান মুকুল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে উঠে এসেছে, ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ, উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-মাওলানাসহ পরিচিত ব্যক্তিদের রেফারেন্স ব্যবহার করে মানুষের আস্থা অর্জন করা হতো। এরপর তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
অর্থ ফেরত না পাওয়ার পর একাধিক ব্যক্তি আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
অর্থ উদ্ধারের দাবি ভুক্তভোগীদের
ভুক্তভোগীদের দাবি, হাফিজুর রহমান মুকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া অর্থের হিসাব ও লেনদেনের পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের অর্থ উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, আত্মসাতের অভিযোগ থাকা অর্থ বিভিন্ন কারেন্সিতে রূপান্তর করে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ তথ্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সাত মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, “তার নামে সাতটি ওয়ারেন্ট আছে। আমরা তাকে আদালতে সোপর্দ করেছি।”
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর হাফিজুর রহমান মুকুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং অর্থ লেনদেনের প্রকৃত ঘটনা নির্ধারিত হবে।