চিলমারীর বাঁধে ফের ধ্বস আতঙ্কে হাজারো পরিবার

চিলমারীর বাঁধে ফের ধ্বস আতঙ্কে হাজারো পরিবার
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীররক্ষা বাঁধে ফের ধস দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল কেডিওয়ারী এলাকায় বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এতে নদীতীরবর্তী শত শত বিঘা আবাদি জমি, বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন হাজারো পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে অন্তত চার দফায় বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ধস দেখা দেয়। তখন জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে নতুন করে ধস দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আখের আলী, নুর মোহাম্মদ ও শমসের আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এর আগেও চারবার বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছিল। তখন কোনো রকমে ভাঙন ঠেকানো হলেও এক দিনের বৃষ্টিতেই আবারও বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে।
তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ধস আরও বিস্তৃত হয়ে নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা। এতে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “ব্রহ্মপুত্রের কাঁচকোল এলাকায় প্রায় চার কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ইতোমধ্যে ৬ হাজার জিওব্যাগ ফেলার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় বাঁধ পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।”
ট্যাগ
জনপ্রিয়
উচ্চ মুনাফার ফাঁদে শত মানুষ, ৭ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত হাফিজ গ্রেপ্তার

উচ্চ মুনাফার ফাঁদে শত মানুষ, ৭ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত হাফিজ গ্রেপ্তার

চিলমারীর বাঁধে ফের ধ্বস আতঙ্কে হাজারো পরিবার

আপডেট সময় : ০৬:১১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীররক্ষা বাঁধে ফের ধস দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল কেডিওয়ারী এলাকায় বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এতে নদীতীরবর্তী শত শত বিঘা আবাদি জমি, বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন হাজারো পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে অন্তত চার দফায় বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ধস দেখা দেয়। তখন জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে নতুন করে ধস দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আখের আলী, নুর মোহাম্মদ ও শমসের আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এর আগেও চারবার বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছিল। তখন কোনো রকমে ভাঙন ঠেকানো হলেও এক দিনের বৃষ্টিতেই আবারও বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে।
তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ধস আরও বিস্তৃত হয়ে নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা। এতে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “ব্রহ্মপুত্রের কাঁচকোল এলাকায় প্রায় চার কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ইতোমধ্যে ৬ হাজার জিওব্যাগ ফেলার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় বাঁধ পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।”