মাসুদ রানা মনি রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর):
বই মানুষের পরম বন্ধু, আর সেই বন্ধুত্ব যদি রূপ নেয় এক বিশাল সমুদ্রে- তবে তা দেখার মতো এক বিস্ময় হয়ে দাঁড়ায়।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য, বরেণ্য শিক্ষাবিদ আ ন ম শামছুল ইসলাম,( যিনি এলাকায় ‘নাসের প্রফেসর’ হিসেবে সমধিক পরিচিত)
উনার বাড়িটি এখন বিশাল লাইব্রেরিতে পরিণত হয়েছে। রয়েছে অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের মূল্যবান বই। এটি যেন এক অনন্য বিস্ময়। কালিকাপুরের নূর মোহাম্মদ পাটোয়ারী বাড়ির এই সাবেক সাংসদের পুরো বাড়ির প্রতিটি রুমেই রয়েছে কেবলই বইয়ের সমারোহ।
দীর্ঘ কয়েক দশকের পরিশ্রমে গড়ে তোলা তাঁর এই ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে রয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা সমমূল্যের বিরল ও ব্যতিক্রমধর্মী বইয়ের সংগ্রহ।

জ্ঞানপিপাসু এই ব্যক্তিত্বের বইয়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো সাময়িক বিষয় ছিল না। শৈশব হতে অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণিতে (ক্লাস ফাইভ) পড়ার সময় থেকেই তিনি বই সংগ্রহ শুরু করেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে জ্ঞানের প্রতি তাঁর তৃষ্ণা আরও তীব্র হয়। তিনি মূলত সাধারণ কোনো পাঠক ছিলেন না, ছিলেন বিরল, দুষ্প্রাপ্য ও ব্যতিক্রমধর্মী বইয়ের একনিষ্ঠ পাঠক এবং ক্রেতা। আজ তাঁর সংগ্রহশালাটি যেকোনো বড় কোন লাইব্রেরিকেও হার মানায়।প্রতিদিন শত শত লোক প্রফেসর নাসেরের এই সংগ্রহ শালা দেখতে ভীড় জমান।
আ.ন.ম শামসুল ইসলাম নাসের প্রফেসর ১৯৬৮ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত রামগঞ্জ সরকারি কলেজের অর্থনীতি বি়ভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের ২২ শে আগস্ট তিনি রামগঞ্জ দল্টা কলেজে যোগ দেন এবং ১ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১০ বছর সফলভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অবসরে যান।
রাজনৈতিক জীবনেও তিনি ছিলেন আলোচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৮৫ সালে রামগঞ্জ উপজেলার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ সালের ৭ মে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রামগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী সময়ের প্রথম এমপি আব্দুর রশিদকে পরাজিত করেন। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে তিনি ছিলেন রামগঞ্জের ২য় তম সাংসদ।
প্রফেসর নাসের জানান, বইয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আজ তার এই বিশাল সংগ্রহশালা। এখন অনেকেই এখানে আসেন বই পড়ার জন্য।





















