শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৫: আইসিইউতে একজনের মৃত্যু

শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৫: আইসিইউতে একজনের মৃত্যু
নীলফামারীর জলঢাকায় শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মকবুল হোসেন (৪৫) নামে এক মুরগি ব্যবসায়ী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নে কয়েকজন শিশু শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে খেলছিল। এ সময় শিশুদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
পরে আহতদের উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত মকবুল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
মকবুল হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিহতের মরদেহ জলঢাকার বালাগ্রামে নিজ বাড়িতে নেওয়ার পথে জলঢাকা বাজারে লাশবাহী গাড়ি আটকে দেন বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মানববন্ধন করেন তারা। পরে মানববন্ধনটি বিক্ষোভে রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সংঘর্ষে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, সংঘর্ষে আহত মকবুল হোসেনসহ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একই ঘটনায় প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অবস্থায় মকবুল হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর জলঢাকা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি মামলা নথিভুক্ত হয়। অর্থাৎ, একই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ‘আসামিদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। অতিদ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ট্যাগ
জনপ্রিয়
বেরোবিতে বাস ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু, কমবে অপেক্ষার ভোগান্তি

বেরোবিতে বাস ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু, কমবে অপেক্ষার ভোগান্তি

শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৫: আইসিইউতে একজনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০১:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নীলফামারীর জলঢাকায় শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মকবুল হোসেন (৪৫) নামে এক মুরগি ব্যবসায়ী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নে কয়েকজন শিশু শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে খেলছিল। এ সময় শিশুদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
পরে আহতদের উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত মকবুল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
মকবুল হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিহতের মরদেহ জলঢাকার বালাগ্রামে নিজ বাড়িতে নেওয়ার পথে জলঢাকা বাজারে লাশবাহী গাড়ি আটকে দেন বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মানববন্ধন করেন তারা। পরে মানববন্ধনটি বিক্ষোভে রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সংঘর্ষে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, সংঘর্ষে আহত মকবুল হোসেনসহ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একই ঘটনায় প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অবস্থায় মকবুল হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর জলঢাকা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি মামলা নথিভুক্ত হয়। অর্থাৎ, একই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ‘আসামিদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। অতিদ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’