রামগঞ্জে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা  সাধারণ মানুষের বোবাকান্না 

রামগঞ্জে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা  সাধারণ মানুষের বোবাকান্না 
 মাসুদ রানা মনি রামগঞ্জ  (লক্ষ্মীপুর):
প্রতিনিয়তই বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম। কিন্তু বাড়ছেনা মানুষের আয়ের উৎস। দিন দিন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে লক্ষ্মীপুরের  রামগঞ্জে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ  পরিবারগুলো।
সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।  নিম্ন আয়ের মানুষগুলো তাদের কষ্টের কথা অন্যের কাছে শেয়ার করতে পারলেও ছোট খাট সরকারি চাকরি জী্বি, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে অল্প বেতনে কর্মরত শ্রমজীবী সাধারণ  মানুষ ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর বোবা কান্না দেখার কেউ নেই। চক্ষু লজ্জার ভয়ে মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকলেও তারা কাউকে কিছু বলতে পারছেনা।
কোনভাবে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চাকুরীজীবি ও মধ্যবিত্তদের। আর দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন।
খেটে খাওয়া  মানুষ  চাল ও আটা কিনতে পারলেও মাছ, মাংস, কাঁচা শাকসবজি কিনতে পারছে না।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, রামগঞ্জ ও সোনাপুর বাজারে একটি পাইকারি সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে। যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অযুহাতে পন্য সরবরাহ কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করে দেয় লাগামহীনভাবে।
সরেজমিনে রামগঞ্জ এবং সোনাপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একই পন্য ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডিম,ডাল , পেয়াজ ও আলুর দাম। রসুনের দাম একেক দোকানে একেক রকম  চায়না ও দেশী রসুন ৯০ টাকা থেকে শুরু করে ১৩০ টাকা  বিক্রি হচ্ছে, পেয়াজ ৪৫ টাকা, আলু ২৫ টাকা চিনি ১১০ টাকা।  বেড়েছে জিরা, গোল মরিচ ও এলাচির দাম।
এছাড়াও ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮পিস ১০০ টাকা (ফার্ম) দেশী প্রতিপিচ ডিম ২০ টাকা ।
সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে গুড়ো দুধ ও শিশু খাদ্যের। বাচ্চাদের গুড়ো দুধ প্রতিটি দুধে বেড়েছে  ১০০-২৫০ টাকা, বায়োমিল দুধ ৪০০ থেকে বেড়ে ৫৫০ টাকা, ফাহিমা দুধ ৬০০ থেকে বেড়ে ৭০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 বেড়েছে সাবান এবং ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম। গ্যাসের দাম ১৭০০  থেকে ১৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন খোদ ব্যবসায়ীরাই।
এছাড়াও কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়কাঁচা মরিচ ১৬০টাকা, সিম ১৪০ থেকে ১৫০টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ১৭০টাকা, ফুলকপি ১৫০ টাকা মুলা ৬০থেকে ৮০টাকা, পোটল ৮০টাকা, করলা ১০০টাকা, কচুর ছড়া ৭০টাকা, লাল শাক ৮০ থেকে ১০০টাকা,বরবটি ১২০ টাকা,শশা ৮০ টাকা।
তেলাপিয়া মাছ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ২৯০ টাকা, ইলিশ ১৬শত থেকে ২৬শত টাকা, চিংড়ি ৮৫০ থেকে ১৪শত টাকায় বিক্রি হচ্ছ।
ফার্ম মুরগি কেজি প্রতি ১৮০টাকা, কর্ক মুরগি ৩৫০, সোনালী ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সচেতনমহল মনে করছেন, ঠিকমত বাজার মনিটরিং না থাকার কারনে দ্রব্যমূল্যের দাম একেক যায়গায় একেক রকম। যদিও মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু তারা মনে করছেন, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান সবসময় পরিচালনা করা  জরুরী।
রামগঞ্জ বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী  জাকির  আবির,ফারুক,  হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জানান, ডিম, গ্যাস ও শিশু খাদ্যের দাম ব্যাপকহারে বেড়েছে। দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত কাস্টমারদের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়াতে হয়। দ্রব্যমূলের বৃদ্ধির কারনে বিক্রি আগের চেয়ে অনেক কমেছে বলেও জানান তারা।
তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে সিন্ডিকেট। কৃষকরা যখন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পন্য উৎপাদন করে, মানুষের খাদ্যের জন্য যখন প্রস্তুত করে, তখন কিছু স্বার্থন্বেষী মহল বাইরে থেকে ওই পণ্যগুলো আমদানি করে। এতে করে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় না। ফলে তারা ডিজহাটেড হয়ে যায় এবং কৃষিকাজ বন্ধ করে দেয়। এতে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সিন্ডিকেট চক্র দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
চাকুরিজীবী আনোয়ার হোসেন,আবদুর রহিম,ইউছুপ আলী বলেন, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে আমাদের মতো ছোটখাটো চাকরিজীবীদের করুণ দশা।
যে টাকা বেতন পাই, সে টাকা দিয়ে নিজের কোন চাহিদা মেটানো দুরে থাক, ঠিকভাবে পরিবারে মাসের বাজারও করতেই পারিনা। যেখানে কখনো ৫কেজির নিচে চাউল কিনি নাই। সেখানে এখন ১কেজি চাউলও কিনতে হচ্ছে।
কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান  আমাদের বেতন দিয়েই চলতে হয়, বলতে পারেন মাপা টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজার দরে পণ্য সামগ্রী কিনতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। কাউকে তো কিছু বলতেও পারি না।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী  আতিকুর রহমান  বলেন, বর্ষাকালে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা হরহামেশাই  মোবাইল কোট পরিচালনা করে আসছি। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ট্যাগ
জনপ্রিয়
সুন্দরগঞ্জে দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সুন্দরগঞ্জে দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রামগঞ্জে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা  সাধারণ মানুষের বোবাকান্না 

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 মাসুদ রানা মনি রামগঞ্জ  (লক্ষ্মীপুর):
প্রতিনিয়তই বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম। কিন্তু বাড়ছেনা মানুষের আয়ের উৎস। দিন দিন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে লক্ষ্মীপুরের  রামগঞ্জে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ  পরিবারগুলো।
সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।  নিম্ন আয়ের মানুষগুলো তাদের কষ্টের কথা অন্যের কাছে শেয়ার করতে পারলেও ছোট খাট সরকারি চাকরি জী্বি, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে অল্প বেতনে কর্মরত শ্রমজীবী সাধারণ  মানুষ ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর বোবা কান্না দেখার কেউ নেই। চক্ষু লজ্জার ভয়ে মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকলেও তারা কাউকে কিছু বলতে পারছেনা।
কোনভাবে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চাকুরীজীবি ও মধ্যবিত্তদের। আর দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন।
খেটে খাওয়া  মানুষ  চাল ও আটা কিনতে পারলেও মাছ, মাংস, কাঁচা শাকসবজি কিনতে পারছে না।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, রামগঞ্জ ও সোনাপুর বাজারে একটি পাইকারি সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে। যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অযুহাতে পন্য সরবরাহ কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করে দেয় লাগামহীনভাবে।
সরেজমিনে রামগঞ্জ এবং সোনাপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একই পন্য ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডিম,ডাল , পেয়াজ ও আলুর দাম। রসুনের দাম একেক দোকানে একেক রকম  চায়না ও দেশী রসুন ৯০ টাকা থেকে শুরু করে ১৩০ টাকা  বিক্রি হচ্ছে, পেয়াজ ৪৫ টাকা, আলু ২৫ টাকা চিনি ১১০ টাকা।  বেড়েছে জিরা, গোল মরিচ ও এলাচির দাম।
এছাড়াও ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮পিস ১০০ টাকা (ফার্ম) দেশী প্রতিপিচ ডিম ২০ টাকা ।
সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে গুড়ো দুধ ও শিশু খাদ্যের। বাচ্চাদের গুড়ো দুধ প্রতিটি দুধে বেড়েছে  ১০০-২৫০ টাকা, বায়োমিল দুধ ৪০০ থেকে বেড়ে ৫৫০ টাকা, ফাহিমা দুধ ৬০০ থেকে বেড়ে ৭০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 বেড়েছে সাবান এবং ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম। গ্যাসের দাম ১৭০০  থেকে ১৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন খোদ ব্যবসায়ীরাই।
এছাড়াও কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়কাঁচা মরিচ ১৬০টাকা, সিম ১৪০ থেকে ১৫০টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ১৭০টাকা, ফুলকপি ১৫০ টাকা মুলা ৬০থেকে ৮০টাকা, পোটল ৮০টাকা, করলা ১০০টাকা, কচুর ছড়া ৭০টাকা, লাল শাক ৮০ থেকে ১০০টাকা,বরবটি ১২০ টাকা,শশা ৮০ টাকা।
তেলাপিয়া মাছ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ২৯০ টাকা, ইলিশ ১৬শত থেকে ২৬শত টাকা, চিংড়ি ৮৫০ থেকে ১৪শত টাকায় বিক্রি হচ্ছ।
ফার্ম মুরগি কেজি প্রতি ১৮০টাকা, কর্ক মুরগি ৩৫০, সোনালী ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সচেতনমহল মনে করছেন, ঠিকমত বাজার মনিটরিং না থাকার কারনে দ্রব্যমূল্যের দাম একেক যায়গায় একেক রকম। যদিও মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু তারা মনে করছেন, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান সবসময় পরিচালনা করা  জরুরী।
রামগঞ্জ বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী  জাকির  আবির,ফারুক,  হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জানান, ডিম, গ্যাস ও শিশু খাদ্যের দাম ব্যাপকহারে বেড়েছে। দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত কাস্টমারদের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়াতে হয়। দ্রব্যমূলের বৃদ্ধির কারনে বিক্রি আগের চেয়ে অনেক কমেছে বলেও জানান তারা।
তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে সিন্ডিকেট। কৃষকরা যখন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পন্য উৎপাদন করে, মানুষের খাদ্যের জন্য যখন প্রস্তুত করে, তখন কিছু স্বার্থন্বেষী মহল বাইরে থেকে ওই পণ্যগুলো আমদানি করে। এতে করে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় না। ফলে তারা ডিজহাটেড হয়ে যায় এবং কৃষিকাজ বন্ধ করে দেয়। এতে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সিন্ডিকেট চক্র দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
চাকুরিজীবী আনোয়ার হোসেন,আবদুর রহিম,ইউছুপ আলী বলেন, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে আমাদের মতো ছোটখাটো চাকরিজীবীদের করুণ দশা।
যে টাকা বেতন পাই, সে টাকা দিয়ে নিজের কোন চাহিদা মেটানো দুরে থাক, ঠিকভাবে পরিবারে মাসের বাজারও করতেই পারিনা। যেখানে কখনো ৫কেজির নিচে চাউল কিনি নাই। সেখানে এখন ১কেজি চাউলও কিনতে হচ্ছে।
কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান  আমাদের বেতন দিয়েই চলতে হয়, বলতে পারেন মাপা টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজার দরে পণ্য সামগ্রী কিনতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। কাউকে তো কিছু বলতেও পারি না।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী  আতিকুর রহমান  বলেন, বর্ষাকালে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা হরহামেশাই  মোবাইল কোট পরিচালনা করে আসছি। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।