নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতের সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান। এর আগে শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম খানপুর গ্রামের ফরাজী বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরাজী বাড়ির মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাথাব্যথা হওয়ায় সে বাবুনগর এলাকার হাসানহাট বাজারে আলমগীরের ওষুধের দোকানে যায়। আলমগীর ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করেন।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, মাথাব্যথা ঝাড়ফুঁক করলে ভালো হয়ে যাবে বলে আলমগীর শিশুটিকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে শিশুটি শরীরে ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত আলমগীর জামায়াতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
তবে অভিযুক্ত আলমগীরের দাবি তুলে ধরে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ঝাড়ফুঁকের কাজ করতে গিয়ে রতনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। একটি চক্র টাকা দাবি করে না পাওয়ায় ভিকটিমকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলানো হয়েছে। পরে পরিবারকে উসকানি দিয়ে মামলা করানো হয়েছে বলে আলমগীর দাবি করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।






















