নেত্রকোনার বারহাট্টায় আমন ধান রোপনের শুরু থেকেই কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট সারের সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ ও করছেন স্থানীয় কৃষকরা।এ নিয়ে চরম সমস্যার আবর্তে স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকরা জানান,প্রায় প্রতি বছর আমন ধান রোপনের শুরু থেকেই একটি অসাধু ব্যবসায়ী মহল কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট সার সংকটের সাথে জড়িত থাকে। তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে থাকে।এ যেন স্থানীয় এক রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকদের অভিযোগ, ১ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের ডিএপি সার ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সারের ক্ষেত্রে ও আনুপাতিক হারে স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন ধরনের সার দিনেরাতে বিক্রি হচ্ছে। বাঁধা দিতে গেলে অপমানিত হতে হয়। আবার অতিরিক্ত দরদাম জিজ্ঞেস করলে ব্যবসায়ীরা বলছেন,দোকানে সার নেই,এ দামেই সবাই ক্রয় করছে। ব্যবসা করলে লাভ করতেই হবে।’

বাউসী ইউনিয়নের মৌয়াটি গ্ৰামের কৃষক জসীম উদ্দিন জানান,আমি প্রতি বছর কয়েক কাঠা জমিতে আমন ধান রোপন করি। এজন্য প্রতি বছর হয়রানির শিকার হতে হয়।বারহাট্টা বাজারে ডিএপি সার ১৭০০ টাকা বস্তা কিনেছি। দামাদামি করতে গেলে ববসায়ীরা সার বিক্রি করতে চায় না। আমরা দুর্দিনে আছি। কেউ পক্ষে কথা বলতে চান না।
স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী রিপন কান্তি গুণ জানান, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি হচ্ছে।প্রশাসনিক ভাবে মনিটরিং ও হচ্ছে।অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকেরা সংবাদ প্রকাশ করছেন। তবু একটি অসাধু ব্যবসায়ী মহল অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের জন্য অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করছেন। এতে বিপাকে কৃষকরা।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের সুশ্রী রাণী সাহা রায় ট্রেডার্সের পরিচালক সার অটোরিকশায় তোলার সময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে অনেক তর্কাতর্কি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এ ব্যাপারে কথা বলতে নারাজ।যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষকদের ওপর।

রায়পুর ইউনিয়নের দশধার পালপাড়ার কৃষক তপন দাস জানান,সার কিনতে গেলে হয়রানির শেষ নেই। স্থানীয় বাজার থেকে উপজেলা শহরে একই অবস্থা। দামাদামি করা যাবে না।অন্য জায়গায় যান,সার নেই,কী করতে পারবেন, এতসব প্রশ্ন সার বিক্রেতাদের। কৃষকরা অসহায়,এ সমস্যার সমাধান জরুরিভাবে দরকার।
এ সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, বাজারে যাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি না হয় এজন্য মনিটরিং টিম কাজ করছে।সারের দাম , পরিমাণ এসব জানতে হলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলে তথ্য দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সার সম্পর্কে তথ্য জানা যেখানে কঠিন বিষয়, সেখানে মাঠ থেকে আসা কৃষকদের অবহেলা করা সামান্য ব্যাপার। অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এ সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি।
এদিকে বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে বারহাট্টায় আরও দুই সার ডিলারকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়।
অপরদিকে চিরাম ইউনিয়নের সার ডিলার বুলবুল আহমেদ জানান,বারহাট্টা উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তারা অনেক সময় মাঠে আসছেন না বলে অভিযোগ করেন।তারা সরেজমিনে থাকলে সারের দরদাম নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের সাথে ডিলারদের কোন প্রকার সমস্যা সৃষ্টি হতো না।





















