কটিয়াদী অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক বেহাল, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

কটিয়াদী অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক বেহাল, দুর্ভোগে এলাকাবাসী
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
বেতাল বাজার থেকে পং মসূয়া পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় চার কিলোমিটার। সড়কটির কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ।
পর্যাপ্ত মাটি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টিতে দেবে যাচ্ছে সড়কের পাশ। সড়কটিতে চলতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
শুধু এই সড়ক নয়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার অধিকাংশ সড়কই বেহাল। এতে যানবাহন চলাচলে সড়কগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
কটিয়াদী উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। প্রায় তিন লাখ ৫১ হাজার মানুষের বসবাস এ উপজেলায়। গত এক মাসে কয়েক দফা ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় আগে থেকেই নাজুক সড়কগুলোর অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যথাযথ তদারকির অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের দায়সারা ও নিম্নমানের কাজের কারণে সংস্কারের কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কে আবারও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়।
তাদের দাবি, বরাদ্দ অনুযায়ী কাজের মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি বাড়ানো প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের যুক্ত করে কাজের মান পর্যবেক্ষণ করা হলে সড়কগুলো আরো টেকসই হতে পারে বলেও মনে করেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেতাল বাজার থেকে পং মসূয়া বাজার, বানিয়াগ্রাম বাজার থেকে পাইকসা-অষ্টঘড়িয়া, মানিকখালী-গচিহাটা, করগাঁও রোড, বেতাল বাজার মাদ্রাসা রোড, মসূয়া-শিমুলকান্দি, বৈরাগীরচর গ্রাম, বাচ্চু মেম্বারের বাড়ি থেকে বৈরাগীরচর-কাজীরচর, অরিয়াধর-পাইকান, চরপুক্ষিয়া আতকাপাড়া থেকে পাইকান ব্রিজ এবং গচিহাটা-ধনকিপাড়া সড়ক প্রায় একই রকম বেহাল।
এ ছাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার অনেক সড়কের অবস্থাও নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা  ঘটছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। সড়ক বেহাল হওয়ার কারণে কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নিয়ে যেতেও কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মসূয়া-বেতাল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সরকার যে টাকা দেয়, তা ঠিকমতো খরচ করলে রাস্তা ১০ বছরেও এভাবে নষ্ট হতো না। যে দেখার কথা, সে-ই যদি অনিয়ম করে, তাহলে ভালো কাজ হবে কীভাবে? সড়কে চলাচল করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছি।’
একই এলাকার মো. আসাদ মিয়া ও আব্দুল কুদ্দুস নামের দুই প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, ‘সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গিয়ে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। কৃষিপণ্য হাটে নিতে পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। টেকসই কাজ না হলে এই সমস্যা শেষ হবে না।’
লোহাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী বলেন, ‘আমাদের অনেক গ্রামের রাস্তা খানাখন্দে ভরা। মানুষের কষ্টের শেষ নেই। গ্রামের রাস্তা তৈরি বা মেরামতের ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। পিচের পরিবর্তে পাথরের ব্লক দিয়ে রাস্তা করলে তা আরও টেকসই হতে পারে।’
কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. এহেতেশামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করছি, অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ বাস্তবায়ন শুরু করতে পারব। নতুন সড়কের কাজগুলো টেকসই করতে যথাযথ তদারকি করা হবে।’
জনপ্রিয়
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বেরোবিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বেরোবিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

কটিয়াদী অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক বেহাল, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
বেতাল বাজার থেকে পং মসূয়া পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় চার কিলোমিটার। সড়কটির কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ।
পর্যাপ্ত মাটি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টিতে দেবে যাচ্ছে সড়কের পাশ। সড়কটিতে চলতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
শুধু এই সড়ক নয়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার অধিকাংশ সড়কই বেহাল। এতে যানবাহন চলাচলে সড়কগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
কটিয়াদী উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। প্রায় তিন লাখ ৫১ হাজার মানুষের বসবাস এ উপজেলায়। গত এক মাসে কয়েক দফা ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় আগে থেকেই নাজুক সড়কগুলোর অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যথাযথ তদারকির অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের দায়সারা ও নিম্নমানের কাজের কারণে সংস্কারের কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কে আবারও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়।
তাদের দাবি, বরাদ্দ অনুযায়ী কাজের মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি বাড়ানো প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের যুক্ত করে কাজের মান পর্যবেক্ষণ করা হলে সড়কগুলো আরো টেকসই হতে পারে বলেও মনে করেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেতাল বাজার থেকে পং মসূয়া বাজার, বানিয়াগ্রাম বাজার থেকে পাইকসা-অষ্টঘড়িয়া, মানিকখালী-গচিহাটা, করগাঁও রোড, বেতাল বাজার মাদ্রাসা রোড, মসূয়া-শিমুলকান্দি, বৈরাগীরচর গ্রাম, বাচ্চু মেম্বারের বাড়ি থেকে বৈরাগীরচর-কাজীরচর, অরিয়াধর-পাইকান, চরপুক্ষিয়া আতকাপাড়া থেকে পাইকান ব্রিজ এবং গচিহাটা-ধনকিপাড়া সড়ক প্রায় একই রকম বেহাল।
এ ছাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার অনেক সড়কের অবস্থাও নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা  ঘটছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। সড়ক বেহাল হওয়ার কারণে কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নিয়ে যেতেও কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মসূয়া-বেতাল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সরকার যে টাকা দেয়, তা ঠিকমতো খরচ করলে রাস্তা ১০ বছরেও এভাবে নষ্ট হতো না। যে দেখার কথা, সে-ই যদি অনিয়ম করে, তাহলে ভালো কাজ হবে কীভাবে? সড়কে চলাচল করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছি।’
একই এলাকার মো. আসাদ মিয়া ও আব্দুল কুদ্দুস নামের দুই প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, ‘সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গিয়ে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। কৃষিপণ্য হাটে নিতে পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। টেকসই কাজ না হলে এই সমস্যা শেষ হবে না।’
লোহাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী বলেন, ‘আমাদের অনেক গ্রামের রাস্তা খানাখন্দে ভরা। মানুষের কষ্টের শেষ নেই। গ্রামের রাস্তা তৈরি বা মেরামতের ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। পিচের পরিবর্তে পাথরের ব্লক দিয়ে রাস্তা করলে তা আরও টেকসই হতে পারে।’
কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. এহেতেশামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করছি, অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ বাস্তবায়ন শুরু করতে পারব। নতুন সড়কের কাজগুলো টেকসই করতে যথাযথ তদারকি করা হবে।’