৮৪ বছর বয়সেও ভ্যান চালিয়ে কাপড় বিক্রি করেন উল্লাপাড়ার আবদুর রহমান

৮৪ বছর বয়সেও ভ্যান চালিয়ে কাপড় বিক্রি করেন উল্লাপাড়ার আবদুর রহমান

সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

সংসারের অভাব প্রায় ৮৪ বছর বয়সেও আবদুর রহমানকে ঘরে বসে থাকতে দেয়নি। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন পায়ে চালিত পুরোনো ভ্যানে কাপড় নিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বেড়ান তিনি। দীর্ঘ পথ পায়ে চালিয়ে ভ্যান নিয়ে চলতে গিয়ে চরম কষ্ট হলেও থেমে নেই তাঁর জীবনসংগ্রাম।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের শহরিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহমান প্রায় ৩৬ বছর ধরে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করছেন। প্রতিদিন সকালে কাপড় বোঝাই ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর বিভিন্ন গ্রামের সড়ক ধরে মাইলের পর মাইল পায়ে চালিয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যান।

গ্রামের কোনো একটি স্থানে ভ্যান থামিয়ে হ্যান্ডমাইকে ক্রেতাদের ডাকেন। তাঁর ভ্যানে বিছানার চাদর, বালিশের কভারসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় থাকে। ব্যবসার সুবিধার জন্য বহু বছর আগে ভ্যানটি কিনেছিলেন তিনি। বর্তমানে ভ্যানটি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই নষ্ট হয়। কখনো পায়ে চালিয়ে, আবার কখনো টেনে ভ্যান নিয়ে চলতে হয় তাঁকে।

সম্প্রতি সলঙ্গা ইউনিয়নের চরবেড়ায়-ধামাইলকান্দি সড়কে মধ্যদুপুরে কাপড় বোঝাই ভ্যান পায়ে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন আবদুর রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, নিজের কোনো আবাদি জমি নেই। কয়েক শতক বসতভিটায় স্ত্রী, এক প্রতিবন্ধী অবিবাহিত মেয়ে ও নিজেকে নিয়ে তাঁর সংসার।

আবদুর রহমানের দুই ছেলে ও চার মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে দুজন বহু বছর আগে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়েছে। অপর মেয়েটি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাঁর বিয়ে হয়নি।

আবদুর রহমান বলেন, তিন সদস্যের সংসারে খাবারের জোগান দিতে প্রায় ৮৪ বছর বয়সেও তাঁকে পরিশ্রম করতে হচ্ছে। ব্যবসায় তাঁর প্রায় ৩৫ হাজার টাকা পুঁজি রয়েছে। প্রতিদিন বেচাকেনা শেষে কোনো দিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাভ হয়। আবার ভালো কেনাবেচা হলে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারেন।

তিনি জানান, সংসারে অভাব থাকায় পুরোনো ভ্যানটি ঠিকমতো মেরামত করাতে পারেন না। নতুন একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান কেনার সামর্থ্যও তাঁর নেই। একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান পেলে কাপড় নিয়ে সহজে গ্রাম থেকে গ্রামে যেতে পারতেন এবং তাঁর দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটাই কমে যেত।

আবদুর রহমান বলেন, কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তিনি তা গ্রহণ করবেন। একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান পেলে জীবিকার কাজটি আরও সহজে চালিয়ে যেতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

৮৪ বছর বয়সেও ভ্যান চালিয়ে কাপড় বিক্রি করেন উল্লাপাড়ার আবদুর রহমান

আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

সংসারের অভাব প্রায় ৮৪ বছর বয়সেও আবদুর রহমানকে ঘরে বসে থাকতে দেয়নি। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন পায়ে চালিত পুরোনো ভ্যানে কাপড় নিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বেড়ান তিনি। দীর্ঘ পথ পায়ে চালিয়ে ভ্যান নিয়ে চলতে গিয়ে চরম কষ্ট হলেও থেমে নেই তাঁর জীবনসংগ্রাম।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের শহরিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহমান প্রায় ৩৬ বছর ধরে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করছেন। প্রতিদিন সকালে কাপড় বোঝাই ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর বিভিন্ন গ্রামের সড়ক ধরে মাইলের পর মাইল পায়ে চালিয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যান।

গ্রামের কোনো একটি স্থানে ভ্যান থামিয়ে হ্যান্ডমাইকে ক্রেতাদের ডাকেন। তাঁর ভ্যানে বিছানার চাদর, বালিশের কভারসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় থাকে। ব্যবসার সুবিধার জন্য বহু বছর আগে ভ্যানটি কিনেছিলেন তিনি। বর্তমানে ভ্যানটি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই নষ্ট হয়। কখনো পায়ে চালিয়ে, আবার কখনো টেনে ভ্যান নিয়ে চলতে হয় তাঁকে।

সম্প্রতি সলঙ্গা ইউনিয়নের চরবেড়ায়-ধামাইলকান্দি সড়কে মধ্যদুপুরে কাপড় বোঝাই ভ্যান পায়ে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন আবদুর রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, নিজের কোনো আবাদি জমি নেই। কয়েক শতক বসতভিটায় স্ত্রী, এক প্রতিবন্ধী অবিবাহিত মেয়ে ও নিজেকে নিয়ে তাঁর সংসার।

আবদুর রহমানের দুই ছেলে ও চার মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে দুজন বহু বছর আগে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়েছে। অপর মেয়েটি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাঁর বিয়ে হয়নি।

আবদুর রহমান বলেন, তিন সদস্যের সংসারে খাবারের জোগান দিতে প্রায় ৮৪ বছর বয়সেও তাঁকে পরিশ্রম করতে হচ্ছে। ব্যবসায় তাঁর প্রায় ৩৫ হাজার টাকা পুঁজি রয়েছে। প্রতিদিন বেচাকেনা শেষে কোনো দিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাভ হয়। আবার ভালো কেনাবেচা হলে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারেন।

তিনি জানান, সংসারে অভাব থাকায় পুরোনো ভ্যানটি ঠিকমতো মেরামত করাতে পারেন না। নতুন একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান কেনার সামর্থ্যও তাঁর নেই। একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান পেলে কাপড় নিয়ে সহজে গ্রাম থেকে গ্রামে যেতে পারতেন এবং তাঁর দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটাই কমে যেত।

আবদুর রহমান বলেন, কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তিনি তা গ্রহণ করবেন। একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান পেলে জীবিকার কাজটি আরও সহজে চালিয়ে যেতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।