জবি প্রতিবেদকঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুহাম্মদ রাশেদ কাজীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাস সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক ও রূঢ় আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্যের সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়ে সংশ্লিষ্টরা তার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে বা কোনো জরুরি বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে পিএসকে এড়িয়ে সরাসরি সময় পাওয়া যায় না। অনেক সময় দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সাক্ষাৎ মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থী বা সংবাদকর্মীরা দিনের পর দিন ঘুরে সিডিউল না পেলেও, দলীয় পরিচয়ে পরিচিত কেউ গেলে তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের জটিলতা পোহাতে হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্যাম্পাস সাংবাদিক জানান, প্রাতিষ্ঠানিক বা জরুরি কোনো সংবাদ তৈরির জন্য উপাচার্যের বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজন হলে পিএসের দীর্ঘসূত্রতার কারণে যথাসময়ে তা প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো প্রয়োজনে উপাচার্যের দপ্তরে গেলে পিএসের মারমুখী বা অসম্মানজনক আচরণের শিকার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সাংবাদিক অভিযোগ করেন, উপাচার্যের বক্তব্য বা সাক্ষাৎকারের জন্য শিডিউল চাইলে অনেক সময় পাঁচ থেকে সাত দিন পরের সময় দেওয়া হয়। এমনকি নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করেও সাক্ষাৎ না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুধু সাংবাদিক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সামাজিক সংগঠনের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের একটি উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। সময় চাইলে কয়েক দিন পরের সিডিউল দেওয়া হয়। অথচ আমাদের পরে এসেও কয়েকজন ছাত্রনেতা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন।’
এ ছাড়া মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনকে বন্ধু পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জকসু)-এর হল সংসদের সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরাও উপাচার্যের সাক্ষাতের সময় চাইতে গিয়ে পিএসের অসহযোগিতা ও অপেশাদার আচরণের মুখে পড়ার কথা জানিয়েছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভিসির সাক্ষাতের সময়সূচি নিতে গিয়ে জকসু প্রতিনিধিদের অসহযোগিতা ও রূঢ় আচরণের মুখে পড়তে হচ্ছে। অথচ দলীয় পরিচয়ে পরিচিত কেউ গেলে অপেক্ষা ছাড়াই সাক্ষাতের সুযোগ পান এমন অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে।’
ফাতেমা তুজ জোহারার ওই পোস্টের মন্তব্যে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিহাদও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিভাগের শ্রেণিকক্ষ সংকট ও সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও পিএসের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি।
তিনি আরও দাবি করেন, বিভাগের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে আসার কথা বলার পর শিডিউলের জন্য আবেদন রাখা হলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দপ্তর ও সাধারণ শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের মধ্যে এ ধরনের দূরত্ব বা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হওয়া কাম্য নয়। প্রশাসনের সঙ্গে সবার যোগাযোগ আরও সহজ ও পেশাদার হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্যের পিএস মুহাম্মদ রাশেদ কাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে বিষয়টি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। আপনার কাছ থেকেই মাত্র শুনলাম। এখন বিষয়টি আমার নলেজে এসেছে। আমি বিষয়টি দেখব।’


























