সাত দফা দাবি মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না : ডা. শফিকুর রহমান

সাত দফা দাবি মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না : ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের সাত দফা দাবি মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু সাত দফা না মানলে এক দফার দাবি অনিবার্য হয়ে উঠবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা-কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টায় শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারকে সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ইতিহাসে যখনই জনগণের রায়কে অপমান করা হয়েছে, তখনই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। ভালোয় ভালোয় আমাদের দাবি মেনে নিন। একটি দাবিও আমাদের দলীয় দাবি নয়। সবগুলোই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে জামায়াতের আমির বলেন, ১৪০০ এর বেশি সন্তান বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে সরিয়ে আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন। আমরা সবাই সেই শহীদদের কথা বলি। কিন্তু আফসোসের বিষয়, আমাদের সরকার শহীদদের সম্মান করে না। শহীদরা বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারই দলিল হচ্ছে আপনাদের গণভোট।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে তাঁদের বেশ আগ্রহ দেখা যায়। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে তাঁদের এত অনীহা কেন? এর কারণ পরিষ্কার। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সরকার গঠন করা যায়, মন্ত্রী হওয়া যায়। আর মন্ত্রী হলে সিন্ডিকেট তৈরি করে দেশের জনগণের সম্পদ লুট করা যায়। সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারসহ জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার কুক্ষিগত করে একটি দেশকে পঙ্গু করে দেওয়া যায়। এ কারণেই গোটা দেশকে আবারও চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাস্তানি, রাহাজানি, খুন ও গুমের রাজত্বে ফিরিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ায় সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন, সেক্রেটারি এনামুল হক প্রমুখ।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হয়। উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য শেষে লংমার্চের বহর কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে।

পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়, খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর, ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। পরে লংমার্চের বহর কুষ্টিয়ায় পৌঁছালে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গাঁজা ও ইস্কাপ সিরাপ জব্দ

ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় গাঁজা ও ইস্কাপ সিরাপ জব্দ

সাত দফা দাবি মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না : ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০৯:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের সাত দফা দাবি মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু সাত দফা না মানলে এক দফার দাবি অনিবার্য হয়ে উঠবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা-কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টায় শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারকে সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ইতিহাসে যখনই জনগণের রায়কে অপমান করা হয়েছে, তখনই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। ভালোয় ভালোয় আমাদের দাবি মেনে নিন। একটি দাবিও আমাদের দলীয় দাবি নয়। সবগুলোই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে জামায়াতের আমির বলেন, ১৪০০ এর বেশি সন্তান বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে সরিয়ে আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন। আমরা সবাই সেই শহীদদের কথা বলি। কিন্তু আফসোসের বিষয়, আমাদের সরকার শহীদদের সম্মান করে না। শহীদরা বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারই দলিল হচ্ছে আপনাদের গণভোট।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে তাঁদের বেশ আগ্রহ দেখা যায়। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে তাঁদের এত অনীহা কেন? এর কারণ পরিষ্কার। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সরকার গঠন করা যায়, মন্ত্রী হওয়া যায়। আর মন্ত্রী হলে সিন্ডিকেট তৈরি করে দেশের জনগণের সম্পদ লুট করা যায়। সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারসহ জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার কুক্ষিগত করে একটি দেশকে পঙ্গু করে দেওয়া যায়। এ কারণেই গোটা দেশকে আবারও চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাস্তানি, রাহাজানি, খুন ও গুমের রাজত্বে ফিরিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ায় সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন, সেক্রেটারি এনামুল হক প্রমুখ।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হয়। উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য শেষে লংমার্চের বহর কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে।

পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়, খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর, ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। পরে লংমার্চের বহর কুষ্টিয়ায় পৌঁছালে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।