নবীনগর প্রতিনিধি:
মোহাম্মদ জুয়েল রানা, সিটি পোষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বাস্তবায়নাধীন ‘জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের’ (CRALEP) আওতাভুক্ত বিভিন্ন উন্নয়ন স্কিম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রকল্প পরিচালক সোনিয়া নওরিন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং প্রকল্পের ডিপিপিভুক্ত উন্নয়ন স্কিমগুলো পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি নবীনগর সফর করেন।
বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেনমার্কের ইফাদ (IFAD)-এর অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবন-জীবিকার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম, একটি সাবমার্সিবল সড়ক এবং বিদ্যাকুট ও মেরকুটা বাজারের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নসংক্রান্ত একাধিক স্কিম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় হাটবাজার উন্নয়ন, সাবমার্সিবল সড়ক নির্মাণ, সিসি ও আরসিসি সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন, ঘাটলা নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গ্রাম প্রতিরক্ষাবাঁধ নির্মাণসহ জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মরহুম আবদুর রাজ্জাকের ছেলে এবং সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নানের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পরিচিত সমাজকর্মী আবদুল আউয়াল।
পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বিদ্যাকুট ও মেরকুটা বাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়, যাতে প্রস্তাবিত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করার পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা, মতামত ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত উন্নয়ন স্কিমগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে বিদ্যাকুট ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা, বাজার অবকাঠামো, গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনজনিত ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্প পরিচালকের সরেজমিন পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে নবীনগরের উন্নয়ন সম্ভাবনা, স্থানীয় চাহিদা ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিত স্কিমগুলো বাস্তবায়িত হলে নবীনগরের টেকসই উন্নয়ন ও গ্রামীণ জনপদের জীবনমান পরিবর্তনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।



















