মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে’: নাহিদ ইসলাম

মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে’: নাহিদ ইসলাম

‘মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে’: নাহিদ ইসলাম

মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তাদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে গুমের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার এবং গুম প্রতিরোধ আইনে অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখার দাবি জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিরোধী দল ও ভিন্নমতের অসংখ্য মানুষ। তাদের অনেকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে স্বজনদের বছরের পর বছর প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালাগুলোতে মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেখানে যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, তা মানবতার জন্য লজ্জাজনক। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা, কান্না ও বেদনার মধ্য দিয়েই ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরও অনেক পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এখনো গুমের শিকার বহু মানুষের সন্ধান মেলেনি। মোংলার কারাগারে মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগও উদ্বেগের বিষয়।

বর্তমান সরকারের সংসদে উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপি আহ্বায়ক। তাঁর দাবি, এসব উদ্যোগে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দায়মুক্তির কোনো সুযোগ যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না হলে দেশে গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নাহিদ ইসলামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, তাদের পরিবারের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা, গুমের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের ব্যবস্থা করা।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের সংস্কৃতি ফিরে না আসে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের শিকার প্রতিটি মানুষের পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও কান্নার জবাব দিতে হবে। সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

জনপ্রিয়
প্রেসক্লাব যশোরের নবনির্বাচিত কমিটিকে তালা প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা

প্রেসক্লাব যশোরের নবনির্বাচিত কমিটিকে তালা প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা

মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে’: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় : ০২:২৮:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তাদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে গুমের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার এবং গুম প্রতিরোধ আইনে অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখার দাবি জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিরোধী দল ও ভিন্নমতের অসংখ্য মানুষ। তাদের অনেকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে স্বজনদের বছরের পর বছর প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালাগুলোতে মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেখানে যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, তা মানবতার জন্য লজ্জাজনক। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা, কান্না ও বেদনার মধ্য দিয়েই ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরও অনেক পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এখনো গুমের শিকার বহু মানুষের সন্ধান মেলেনি। মোংলার কারাগারে মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগও উদ্বেগের বিষয়।

বর্তমান সরকারের সংসদে উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপি আহ্বায়ক। তাঁর দাবি, এসব উদ্যোগে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দায়মুক্তির কোনো সুযোগ যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না হলে দেশে গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নাহিদ ইসলামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, তাদের পরিবারের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা, গুমের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের ব্যবস্থা করা।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের সংস্কৃতি ফিরে না আসে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের শিকার প্রতিটি মানুষের পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও কান্নার জবাব দিতে হবে। সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।