দুর্নীতির অভিযোগের মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নিজের নীতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণের প্রশ্নে কখনো মাথানত করেননি দাবি করে নিজের অবস্থানকে ‘বোল্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও দুর্নীতির সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ তার স্ট্যাটাসে দাবি করেন, ১১ হাজার কোটি টাকা তো দূরের কথা, তিনি যদি এর এক শতাংশ অর্থাৎ ১১০ কোটি টাকাও দুর্নীতি করতেন, তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত না।
বর্তমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন গলদ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ‘এই দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য মাত্র কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট।’ নির্দিষ্ট স্থানে উপঢৌকন বা ‘সালামি’ পাঠিয়ে দিলে হাজার হাজার অভিযোগও অনুসন্ধানের মুখ দেখত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সততার পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তার ভাষ্য, মাঝেমধ্যে মনে হয় সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। তার দাবি, লাখ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরাও অর্থ ও প্রভাবের কারণে টিকে যেতে পারেন।

নিজের দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, বড় রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানদের সঙ্গে সমঝোতা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক না বানানো, সমঝোতা করে ফ্যাসিবাদের ‘আইকন’ খেলোয়াড়কে দেশে না আনা এবং জোর করে কাউকে সিটি করপোরেশনে বসতে সহযোগিতা না করার মতো সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন।
এ ছাড়া তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গণপ্রতিরক্ষা বাস্তবায়ন এবং ভারতীয় দূতাবাসসহ কূটনৈতিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের নাম ‘ফেলানী’র নামে করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন তিনি।
আপসহীন অবস্থানের পরিণতি প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আপস না করে এমন ‘বোল্ড পজিশন’ নেওয়া বা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করাকে তার ভুল সিদ্ধান্ত মনে করেন।
তবে রাজনীতিতে আপস করে চললে হয়তো ব্যক্তিগতভাবে অনেক ভালো থাকা যেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে সারা জীবন বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হতো। তার দাবি, যেসব ক্ষমতাবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের কথা দেশে অনেকেই সহজে বলতে সাহস করেন না, তাদের সঙ্গে আপস না করার কারণেই তিনি বর্তমান পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
সিটি পোস্ট/


























