পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার তাগিদ দুই ব্রিগেড কমান্ডারের

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার তাগিদ দুই ব্রিগেড কমান্ডারের
রাঙামাটি প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকট রাজনৈতিক, তাই এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবে করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিদায়ী রাঙামাটি ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক।

সোমবার (০২নভেম্বর) বিকেলে রাঙামাটি রিজিয়নের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডারের বিদায় এবং নতুন কমান্ডারের যোগদান উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিদায়ী ব্রিগেড কমান্ডার আরও বলেন, অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া এ অঞ্চলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রাঙামাটিতে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি প্রতিরোধের পাশাপাশি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যেও সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন।

বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরী। কাপ্তাই হ্রদের মাছ, আনারস ও পেপার মিলের মতো স্থানীয় সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গার্মেন্টস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত হলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়ানোর প্রবণতাও কমবে। নিজেদের মধ্যে বিভেদ দূর করতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার আগে দেশকে রাখতে হবে।

অন্যদিকে নবাগত ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতির যে পরিবেশ রয়েছে, তা অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। এ পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন,  পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করার সুযোগ হয়েছে তাঁর। এখানে শান্তি ও সম্প্রীতির যে পরিবেশ তিনি দেখেছেন, তা রোল মডেল হতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত অবদানে রাঙামাটি এগিয়ে যাচ্ছে।

কমান্ডার বলেন, এ অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

এসময় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার  মুহম্মদ আব্দুর রকিব,  ডিজিএফআই, এনএসআই এর উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হকসহ স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা এ বৈঠকে অংশ নেন।
ট্যাগ
জনপ্রিয়
শাজাহানপুরে চুরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোটরসাইকেল উদ্ধার, টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার ১

শাজাহানপুরে চুরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোটরসাইকেল উদ্ধার, টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার ১

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার তাগিদ দুই ব্রিগেড কমান্ডারের

আপডেট সময় : ০৭:০২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
রাঙামাটি প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকট রাজনৈতিক, তাই এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবে করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিদায়ী রাঙামাটি ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক।

সোমবার (০২নভেম্বর) বিকেলে রাঙামাটি রিজিয়নের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডারের বিদায় এবং নতুন কমান্ডারের যোগদান উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিদায়ী ব্রিগেড কমান্ডার আরও বলেন, অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া এ অঞ্চলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রাঙামাটিতে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি প্রতিরোধের পাশাপাশি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যেও সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন।

বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরী। কাপ্তাই হ্রদের মাছ, আনারস ও পেপার মিলের মতো স্থানীয় সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গার্মেন্টস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত হলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়ানোর প্রবণতাও কমবে। নিজেদের মধ্যে বিভেদ দূর করতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার আগে দেশকে রাখতে হবে।

অন্যদিকে নবাগত ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতির যে পরিবেশ রয়েছে, তা অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। এ পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন,  পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করার সুযোগ হয়েছে তাঁর। এখানে শান্তি ও সম্প্রীতির যে পরিবেশ তিনি দেখেছেন, তা রোল মডেল হতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত অবদানে রাঙামাটি এগিয়ে যাচ্ছে।

কমান্ডার বলেন, এ অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

এসময় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার  মুহম্মদ আব্দুর রকিব,  ডিজিএফআই, এনএসআই এর উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হকসহ স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা এ বৈঠকে অংশ নেন।