দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা জানান। দিবসটি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে মহাপরিকল্পনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলার পর্যটন সম্ভাবনা বিবেচনায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, সিলেটের চা-বাগান, সেন্টমার্টিন, বান্দরবানের পাহাড়, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলং এবং বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদসহ বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পর্যটন খাত অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও এ খাতের গুরুত্ব রয়েছে।

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে পর্যটন খাতেও পরিবর্তন আসছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত, আবাসন ও পর্যটনসেবার ধরন বদলে দিচ্ছে।
এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’—এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি জানান, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ, আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ এবং ইকো-ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের বিকাশে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যসেবা চালুর মাধ্যমে দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও সহজলভ্য ও নিরাপদ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে পর্যটন শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন শিল্পের ডিজিটাল ও টেকসই রূপান্তর নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্যও কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।





















