যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে পরপর দুটি আইনি বাধার মুখে পড়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসায় নতুন সময়সীমা আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। একই সময়ে বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মামলা করেছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বোস্টনের ফেডারেল বিচারক এফ. ডেনিস সেলার চতুর্থ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ভিসা বিধিনিষেধ কার্যকর স্থগিত করেন। খবর আলজাজিরার।
নতুন নিয়মটি মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। প্রস্তাবিত নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছরে সীমিত করার কথা বলা হয়েছিল।
এ ছাড়া সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিনে সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়। বর্তমানে এ ভিসা কয়েক বছর পর্যন্ত বৈধ থাকতে পারে।

বিচারক সেলার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তিতে এসব পরিবর্তনের পক্ষে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা ‘অত্যন্ত দুর্বল’।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার আওতায় কয়েক কোটি শিক্ষাবিদ গবেষণা ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে উচ্চশিক্ষা ও বৃহত্তর মার্কিন অর্থনীতিতে এর প্রভাব ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে।
প্রস্তাবিত বিধিনিষেধে প্রায় ১৬ লাখ এফ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী প্রভাবিত হতে পারেন।
গ্রিন কার্ড নীতিতেও আইনি লড়াই
অন্যদিকে, সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।
সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয় নেতৃত্ব দিচ্ছে। মোট ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি এই জোটে রয়েছে। অন্য মামলাটি করেছে ছয়টি শহর ও কাউন্টির একটি জোট।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়মটি শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর আওতায় কোনো অভিবাসীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘পাবলিক চার্জ’ বলতে ঐতিহাসিকভাবে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যিনি জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।
জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নগদ সরকারি সহায়তা বিবেচনা করা যেত। তবে খাদ্য সহায়তা বা মেডিকেডের মতো নগদ নয়—এমন সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে আবেদনকারীকে নেতিবাচকভাবে বিবেচনা করার সুযোগ ছিল না।
ট্রাম্প প্রশাসন এখন তাঁর প্রথম মেয়াদের নীতির আদলে ওই বিধিনিষেধ পুনরায় চালু করতে চাইছে। এর ফলে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেডের মতো সরকারি সুবিধা গ্রহণকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এমনকি আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের সরকারি সুবিধা নিয়েছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের নিয়ম করার এখতিয়ার প্রশাসনের নেই। স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের বলেও তারা দাবি করেছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেডের মতো বৈধভাবে পাওয়া সরকারি সুবিধার কারণে আবেদনকারীদের শাস্তি দেওয়া হলে তা ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে এবং বেআইনি বিধিনিষেধে পরিণত হবে।
তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র মামলাকারীদের সমালোচনা করে তাদের ‘বামপন্থী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, নতুন নিয়মটি অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন সরকারি কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যেগুলো কয়েক দশক ধরে মানুষকে খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে সহায়তা করে আসছে।
সূত্র: আলজাজিরা
সিটি পোস্ট/

























