আলি হায়দার, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীর বিয়ের ঘটনায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পৌরসভার আশ্রবপুর মহল্লার হোসেন মিয়ার ছেলে সাব্বিরের সঙ্গে পশ্চিম গাইলকাটা মহল্লার ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়। মেয়েটি কুলিয়ারচর গ্লোরিয়াস উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, সাব্বির চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়েটি সম্পাদনে ভূমিকা রাখেন স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল সাত্তার ভূঁইয়া। তবে বিয়ে পড়ানোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে পাওয়া গেছে একাধিক অসংগতি। নিজের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বা নিবন্ধন নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট আব্দুল সাত্তার ভূঁইয়া বলেন, বর-কনের বাবা-মা তাঁদের বয়স প্রাপ্তবয়স্ক বলে শনাক্ত করেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বিয়ের বিষয়টি এগিয়েছে। তবে বর-কনের জন্মনিবন্ধন সনদ কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে বয়স যাচাই করা হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।
তিনি নিজে নিকাহ রেজিস্ট্রার কি না, জানতে চাইলে বলেন, তাঁর কোনো নিবন্ধন নেই। তাহলে কীভাবে বিয়ে পড়িয়েছেন, এমন প্রশ্নে একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দেন। প্রথমে বিয়ে পড়ানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি পড়াইনি।’ পরে বলেন, ‘বিয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি।’ আবার জানান, রেজিস্ট্রার দিয়ে পরে নিবন্ধন করিয়ে নেওয়া হবে।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া একজন ছাত্রীর বিয়ে কীভাবে সম্ভব, এমন প্রশ্নে অ্যাডভোকেট সাত্তার ভূঁইয়া বলেন, এটা হবে না। ১৮ বছর না হলে বিয়ের সুযোগ নেই।
এই বিষয়ে শিক্ষার্থীর বাবা মেয়ে ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্রী নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে। বিয়ে পড়ান আব্দুল সাত্তার উকিল। এই বিয়ে বৈধ কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৈধ না এটা জানি, তারপরওতো কত মানুষ করে।
সাব্বিরের বাবা হোসেন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, বিয়ের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের কম বয়সী নারী এবং ২১ বছরের কম বয়সী পুরুষ অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য। আইনের ৯ ধারায় বাল্যবিবাহ সম্পাদন বা পরিচালনার অপরাধে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই আইনের ১২ ধারায় জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও পাসপোর্টকে বয়স প্রমাণের আইনগত দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, ঘটনা শুনেছি। আমি তাদের ডাকিয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় মেয়েটির প্রকৃত বয়স, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও নিবন্ধনের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি বিয়ের বয়সসংক্রান্ত আইন সম্পর্কে অবগত থাকার পরও কীভাবে এমন বিয়ের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।





















