দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ বছরে প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ
রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি | আরিফ হাসান গজনবী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা সফর ঘিরে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উৎসবমুখর হয়ে ওঠে বাগেরহাটের রামপাল ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে খুলনা-মোংলা মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন হাজারো দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর অতিক্রম করার সময় হাত নেড়ে, করতালি ও ফুলেল শুভেচ্ছায় তাঁকে অভ্যর্থনা জানান উপস্থিত জনতা।
সকাল থেকেই রামপাল ও মোংলার বিভিন্ন বাজার, সড়কের মোড় এবং জনবহুল এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও সড়কের পাশে অবস্থান নেন। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
এ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে প্রধানমন্ত্রী ‘মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রকল্পের আওতায় ৩৬৮ মিটার সম্মিলিত দৈর্ঘ্যের ১০ ও ১১ নম্বর দুটি আধুনিক কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ৮৭ হাজার ৬০০ বর্গমিটারের পণ্যভর্তি কনটেইনার ইয়ার্ড, ৩৪ হাজার ১৭০ বর্গমিটারের খালি কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ৪ হাজার ২৬০ বর্গমিটারের বিপজ্জনক পণ্য ব্যবস্থাপনা ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। বন্দরের কার্যক্রমে যুক্ত হবে ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নতুন অবকাঠামোর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা তৈরি হবে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে চীনের এক্সিম ব্যাংক প্রায় ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চীনা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার জায়গায় রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের পাশাপাশি সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, শিল্পকারখানা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ হলে রামপাল-মোংলাসহ আশপাশের জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তবে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে শুধু বন্দর অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিকল্পিত যোগাযোগব্যবস্থা, বন্দরের নাব্যতা রক্ষা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও বন্দর আধুনিকায়নের এই উদ্যোগ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। এখন প্রকল্পের সময়মতো বাস্তবায়ন এবং এর সুফল স্থানীয় অর্থনীতিতে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ।




















