রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আশিকুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বাড়িঘরে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকারসহ নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড ও এ নিয়ে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জাহিদ আহামেদ লিখন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে জাহিদ আহামেদ লিখন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ ঘটনায় আশিকুর রহমান চৌধুরীসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে হারাগাছ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোছা. আদুরী বেগম (৮০)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখন জানান, স্থানীয় বাবু মিয়ার বাড়ির টিনের চালে ক্রিকেট বল লাগাকে কেন্দ্র করে তাঁর খালাতো ভাই আসিফ মিয়ার সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। আসিফ আব্দুর রহমান দাখিল মাদ্রাসায় খেলাধুলার সময় বলটি ওই বাড়ির চালে লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসিফকে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে গেলে তাঁর ভাইকেও মারধর করা হয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি বের করার অভিযোগ ওঠে।
লিখনের দাবি, পরে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে হারাগাছ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আশিকুর রহমান চৌধুরী তাঁকে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড ও মাদক নিয়ে লেখালেখি বন্ধ করতে বলেন। মাদক নিয়ে লেখালেখি করলে সরকারের দুর্নাম হয় এবং তিনি সরকারবিরোধী কাজ করছেন বলেও মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন লিখন।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে কাজ করায় আশিকুর রহমান চৌধুরী তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাঁকে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত ভয়েস রেকর্ড তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
লিখনের অভিযোগ, এসব বিরোধের জেরে তাঁর নিজের বাড়িসহ আত্মীয়স্বজনের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় তাঁর বোনের বিয়ের জন্য রাখা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর খালার বাড়ি থেকে টেলিভিশন নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ফ্রিজসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোছা. সুমি বেগম (৩০) জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ১৫ থেকে ২০ জনকে দেখতে পান। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নুর আলম (৫৫) ঘটনাটি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
অতীতেও কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বের অভিযোগ
আশিকুর রহমান চৌধুরীকে ঘিরে অতীতেও কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকাটাইমসে প্রকাশিত ‘রংপুরে কিশোর গ্যাং ‘টাইগার বাহিনী’র সাতজন গ্রেপ্তার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাহিনীটির সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য জানিয়েছিল পুলিশ।
ওই প্রতিবেদনে আশিকুর রহমান চৌধুরীকে ‘টাইগার বাহিনী’র দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে বাহিনীটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রকাশ করা হয়। তবে ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলার চূড়ান্ত আইনি অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার আশিকুর রহমানের
অভিযোগের বিষয়ে আশিকুর রহমান চৌধুরী সিটি পোস্টকে বলেন, “এই ঘটনায় আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই অবগত নই। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।”
দুই পক্ষের অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার চৌহান সিটি পোস্টকে বলেন, “এ বিষয়ে আমি জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় দুই পক্ষেরই অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুই পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের মাধ্যমে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের সত্যতা এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















