সরকার শাহাদত হোসেন:
গাইবান্ধার দুটি মহিলা কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান দুটিতে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন মাত্র তিনজন। এর মধ্যে দুজন পলাশবাড়ীর ফকিরহাট মহিলা কলেজের এবং একজন সাঘাটার জুমারবাড়ী মহিলা কলেজের। তিন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। শনিবার প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে।
শূন্য পাস করা কলেজ দুটি হলো- পলাশবাড়ী উপজেলার ফকিরহাট মহিলা কলেজ ও সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী মহিলা কলেজ। এর মধ্যে ফকিরহাট মহিলা কলেজ থেকে দুজন এবং জুমারবাড়ী মহিলা কলেজ থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু কেউই পাস করতে পারেননি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত তিন বছর ধরে ফকিরহাট মহিলা কলেজ থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারছেন না। বারবার এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে কলেজ দুটির ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান দুটিতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এত কম কেন, শিক্ষার পরিবেশ কেমন এবং শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ডের অধীন ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে গাইবান্ধার এই দুটি মহিলা কলেজও। প্রতিষ্ঠান দুটি নন-এমপিওভুক্ত। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হতে পারেনি।
এ বিষয়ে সাঘাটার জুমারবাড়ী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে পলাশবাড়ীর ফকিরহাট মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবার রহমান রশিদ বলেন, এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, ২০০০ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত শুধু পাঠদানের অনুমতি পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি আজও এমপিওভুক্ত হয়নি। অনেক শিক্ষকই এমপিওভুক্তির আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এ কারণে তাঁরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন না। তাঁদেরও সংসার রয়েছে। বিনা বেতনে আর কত দিন পড়াবেন? ফলে শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল ভালো রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।





















