সরকার শাহাদত হোসেন
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে ধারণ করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার প্রত্যয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের বর্ণাঢ্য র্যালি ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সকাল ১০টায় উপজেলার কালির বাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ফুলছড়ি উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান মিয়া। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব মো. শফিকুল ইসলাম (বাবু)।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দোহা প্রিন্স, মো. আমিনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া; যুগ্ম মহাসচিব মো. আবু সুফিয়ান বিশ্বাস, মো. শফিউল ইসলাম ও ডা. ফায়েজ আহম্মেদ; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন আকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহিদুজ্জামান এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মো. শফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, থানার ইনচার্জ মো. ইশরাকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কমান্ডার মো. শহিদুল ইসলাম, ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সালাম সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম সোলায়মান শহীদ ও মো. ইকবাল হোসেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আসিফ ইকবাল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ ফুলছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি মো. যাদু মিয়া রানা। সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সোলায়মান মিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে ফুলছড়ি উপজেলা কমিটি জামুকার ১০২ নম্বর পত্র অনুযায়ী বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অধিকার আদায়ে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
প্রধান বক্তা মো. শফিকুল ইসলাম (বাবু) বলেন, সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করা হচ্ছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলাম। আজ আমাদের সন্তানরা সংগঠিত হচ্ছে দেখে আমি গর্বিত।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। ফুলছড়ি উপজেলা শাখার এ কমিটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।
বর্ণাঢ্য র্যালি ও পরিচিতি সভার মধ্য দিয়ে ফুলছড়ি উপজেলা শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।





















