নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে সিনিয়র সচিব(শিক্ষা),স্থগিত প্রকল্পের কাজ শুরুর আশ্বাস

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে সিনিয়র সচিব(শিক্ষা),স্থগিত প্রকল্পের কাজ শুরুর আশ্বাস
বিজয় চন্দ্র দাস,নেত্রকোনা :
সরকারি নিয়মের বাইরেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের থাকে নিজস্ব এলাকার প্রতি হৃদয়ের টান ও ভালোবাসা।আন্তরিক এ টানেই সস্ত্রীক নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম আকস্মিক ও অনানুষ্ঠানিক পরিদর্শন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক। সাথে ছিলেন তার সহধর্মিণী।ফলে পরিদর্শনকালে এক স্নিগ্ধ ও উৎসব মূখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকাল বেলা শিক্ষা সচিবের গাড়ি স্থানীয় উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ  বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।সব মিলে বিশ্ববিদ্যালযয়র টিএসসিসহ উন্মুক্ত চত্বরে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসময়  তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. খালেদ উজ্জামান।
তারপর আসে স্থানীয় কর্মকর্তাদের পালা। একে একে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্মারক হিসেবে ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির আহাম্মদ। এসময় শ্রদ্ধাভরে সচিবের সহধর্মিণীকেও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।শরতের কাশফুলের শুভ্রতায় এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নিজ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের প্রতি একাত্মতা ও দায়বদ্ধতা এবং ক্যাম্পাসে সবুজের প্রসারের প্রতীক হিসেবে পরিদর্শনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি নিমের চারা রোপণ করেন সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক। নিজ হাতে মাটি দিয়ে এবং চারাটিতে পানি ঢেলে তিনি যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদিকে উন্নয়নমূলক ভবিষ্যতের বার্তা রেখে যান।এ সময় চারপাশ ঘিরে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
বৃক্ষরোপণ শেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে হেঁটে হেঁটে নবনির্মিত ভবন ও বিভিন্ন কক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নির্মানাধীন অবকাঠামো ও চারপাশ ঘুরে দেখেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়নের প্রতি তার আন্তরিকতা প্রকাশ পায় তার সাবলীল বক্তব্যে।
এ সময় তিনি বলেন, “নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনতিদূরে পার্শ্ববর্তী উপজেলার এক গ্ৰামে আমার জন্ম। আমি ভালোবাসি আমার এলাকার মানুষকে,ভালোবাসি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়কে।এটি সরকারি দায়িত্ব, সরকারি কাজ করা। আমি শিক্ষা সচিব হিসেবে এসেছি, এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে এবং স্থগিত  কাজগুলো দ্রুত ইনশাআল্লাহ্‌ পুনরায় শুরু করা হবে।
পরিদর্শনকালে তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হয়েছিলেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান।
এছাড়াও নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি এবং রাজস্ব) মুন মুন জাহান লিজাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত থেকে পুরো সময় জুড়েই তাকে সঙ্গ দেন।
প্রথাগত পরিদর্শনের কাঠিন্য ভেঙে শিক্ষা সচিবের আন্তরিক উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথকে আরও সুগম ও গতিশীল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট সকলে। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই পৌঁছেছে।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পপূজামন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, প্রতিমা বির্সজনের মাধ্যমে দূর্গাপূজার সমাপ্তি

সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পপূজামন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, প্রতিমা বির্সজনের মাধ্যমে দূর্গাপূজার সমাপ্তি

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে সিনিয়র সচিব(শিক্ষা),স্থগিত প্রকল্পের কাজ শুরুর আশ্বাস

আপডেট সময় : ০৮:০২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
বিজয় চন্দ্র দাস,নেত্রকোনা :
সরকারি নিয়মের বাইরেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের থাকে নিজস্ব এলাকার প্রতি হৃদয়ের টান ও ভালোবাসা।আন্তরিক এ টানেই সস্ত্রীক নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম আকস্মিক ও অনানুষ্ঠানিক পরিদর্শন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক। সাথে ছিলেন তার সহধর্মিণী।ফলে পরিদর্শনকালে এক স্নিগ্ধ ও উৎসব মূখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকাল বেলা শিক্ষা সচিবের গাড়ি স্থানীয় উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ  বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।সব মিলে বিশ্ববিদ্যালযয়র টিএসসিসহ উন্মুক্ত চত্বরে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসময়  তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. খালেদ উজ্জামান।
তারপর আসে স্থানীয় কর্মকর্তাদের পালা। একে একে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্মারক হিসেবে ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির আহাম্মদ। এসময় শ্রদ্ধাভরে সচিবের সহধর্মিণীকেও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।শরতের কাশফুলের শুভ্রতায় এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নিজ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের প্রতি একাত্মতা ও দায়বদ্ধতা এবং ক্যাম্পাসে সবুজের প্রসারের প্রতীক হিসেবে পরিদর্শনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি নিমের চারা রোপণ করেন সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক। নিজ হাতে মাটি দিয়ে এবং চারাটিতে পানি ঢেলে তিনি যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদিকে উন্নয়নমূলক ভবিষ্যতের বার্তা রেখে যান।এ সময় চারপাশ ঘিরে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
বৃক্ষরোপণ শেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে হেঁটে হেঁটে নবনির্মিত ভবন ও বিভিন্ন কক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নির্মানাধীন অবকাঠামো ও চারপাশ ঘুরে দেখেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়নের প্রতি তার আন্তরিকতা প্রকাশ পায় তার সাবলীল বক্তব্যে।
এ সময় তিনি বলেন, “নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনতিদূরে পার্শ্ববর্তী উপজেলার এক গ্ৰামে আমার জন্ম। আমি ভালোবাসি আমার এলাকার মানুষকে,ভালোবাসি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়কে।এটি সরকারি দায়িত্ব, সরকারি কাজ করা। আমি শিক্ষা সচিব হিসেবে এসেছি, এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে এবং স্থগিত  কাজগুলো দ্রুত ইনশাআল্লাহ্‌ পুনরায় শুরু করা হবে।
পরিদর্শনকালে তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হয়েছিলেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান।
এছাড়াও নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি এবং রাজস্ব) মুন মুন জাহান লিজাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত থেকে পুরো সময় জুড়েই তাকে সঙ্গ দেন।
প্রথাগত পরিদর্শনের কাঠিন্য ভেঙে শিক্ষা সচিবের আন্তরিক উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথকে আরও সুগম ও গতিশীল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট সকলে। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই পৌঁছেছে।
বিজ্ঞাপন