বগুড়ার ধুনটে ৩৫ লাখ টাকার ৯৪ স্মার্টফোন চুরি, আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

বগুড়ার ধুনটে ৩৫ লাখ টাকার ৯৪ স্মার্টফোন চুরি, আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

মীর মোঃ রাকিব হাসান:

বগুড়ার ধুনটে একটি মোবাইল ফোনের দোকানের শাটারের তালা ভেঙে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের ৯৪টি স্মার্টফোন চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই অভিযানে চুরি যাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ধুনট বাজারের ইসামতি ডিজিটাল কমপ্লেক্সে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই মার্কেটের প্রথম তলায় ‘মাসুদ টেলিকম’ নামে একটি মোবাইল ফোনের দোকান রয়েছে। দোকানটির মালিক মো. মাসুদ রানা (৪২)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আগের রাতে মার্কেটের নৈশপ্রহরী মো. সুলতান হোসেন নিয়ম অনুযায়ী দোকানপাটের শাটার ও তালা পরীক্ষা করে দায়িত্ব পালন শেষে বাড়িতে চলে যান। পরদিন বুধবার সকাল আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে তিনি বাড়িতে ফেলে যাওয়া চাবি নিতে মার্কেটে আসেন।

এ সময় নৈশপ্রহরী পিঠে কলেজ ব্যাগ ঝোলানো ৯ থেকে ১০ জনকে মার্কেট থেকে বের হতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি মার্কেটের ভেতরে প্রবেশ করে ‘মাসুদ টেলিকম’ দোকানের শাটারের তালা ভাঙা এবং শাটার খোলা দেখতে পান। পরে মোবাইল ফোনে দোকান মালিককে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে দোকানে এসে মালিক দেখতে পান, দোকানের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। একই সঙ্গে দোকানের গ্যালারিতে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না। এসব মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দোকান মালিক মো. মাসুদ রানা ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বর ধুনট থানায় মামলা নম্বর-২৬, ধারা ৩৮০/৪৬১ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিরস্ত্র) মো. ওসমান গণীর ওপর।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের দিকনির্দেশনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। ধুনট থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের সহায়তায় সিরাজগঞ্জের যমুনা পশ্চিম সেতু থানার টোল প্লাজায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ওই মামলায় চুরি যাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। একই সময় আন্তঃজেলা চোরচক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আল আমিন (৩০), মো. আক্কাস আলী (৩৫), মো. ইমরান (৩০), মো. ইয়াছিন আরাফাত (৩৮), মো. রবিউল ইসলাম (৩৩), মো. আলা উদ্দিন (২৫), মো. ইস্রাফিল রহমান (২৭) ও মো. হৃদয় (৩৪)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বাড়ি চট্টগ্রাম, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া সিডিএমএস যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ধুনট থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

উদ্ধার করা ৯৪টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকের শনাক্তকরণ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, জনস্বার্থে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
শ্রীমঙ্গলে ২৯ পিস ইয়াবাসহ এক নারী গ্রেপ্তার 

শ্রীমঙ্গলে ২৯ পিস ইয়াবাসহ এক নারী গ্রেপ্তার 

বগুড়ার ধুনটে ৩৫ লাখ টাকার ৯৪ স্মার্টফোন চুরি, আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

মীর মোঃ রাকিব হাসান:

বগুড়ার ধুনটে একটি মোবাইল ফোনের দোকানের শাটারের তালা ভেঙে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের ৯৪টি স্মার্টফোন চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই অভিযানে চুরি যাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ধুনট বাজারের ইসামতি ডিজিটাল কমপ্লেক্সে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই মার্কেটের প্রথম তলায় ‘মাসুদ টেলিকম’ নামে একটি মোবাইল ফোনের দোকান রয়েছে। দোকানটির মালিক মো. মাসুদ রানা (৪২)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আগের রাতে মার্কেটের নৈশপ্রহরী মো. সুলতান হোসেন নিয়ম অনুযায়ী দোকানপাটের শাটার ও তালা পরীক্ষা করে দায়িত্ব পালন শেষে বাড়িতে চলে যান। পরদিন বুধবার সকাল আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে তিনি বাড়িতে ফেলে যাওয়া চাবি নিতে মার্কেটে আসেন।

এ সময় নৈশপ্রহরী পিঠে কলেজ ব্যাগ ঝোলানো ৯ থেকে ১০ জনকে মার্কেট থেকে বের হতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি মার্কেটের ভেতরে প্রবেশ করে ‘মাসুদ টেলিকম’ দোকানের শাটারের তালা ভাঙা এবং শাটার খোলা দেখতে পান। পরে মোবাইল ফোনে দোকান মালিককে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে দোকানে এসে মালিক দেখতে পান, দোকানের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। একই সঙ্গে দোকানের গ্যালারিতে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না। এসব মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দোকান মালিক মো. মাসুদ রানা ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বর ধুনট থানায় মামলা নম্বর-২৬, ধারা ৩৮০/৪৬১ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিরস্ত্র) মো. ওসমান গণীর ওপর।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের দিকনির্দেশনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। ধুনট থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের সহায়তায় সিরাজগঞ্জের যমুনা পশ্চিম সেতু থানার টোল প্লাজায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ওই মামলায় চুরি যাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। একই সময় আন্তঃজেলা চোরচক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আল আমিন (৩০), মো. আক্কাস আলী (৩৫), মো. ইমরান (৩০), মো. ইয়াছিন আরাফাত (৩৮), মো. রবিউল ইসলাম (৩৩), মো. আলা উদ্দিন (২৫), মো. ইস্রাফিল রহমান (২৭) ও মো. হৃদয় (৩৪)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বাড়ি চট্টগ্রাম, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া সিডিএমএস যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ধুনট থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

উদ্ধার করা ৯৪টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকের শনাক্তকরণ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, জনস্বার্থে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।