তথ্য গোপন করে একাধিক পেশায় কাজের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

তথ্য গোপন করে একাধিক পেশায় কাজের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

শাহিন জামান, লালমনিরহাট:

তথ্য গোপন করে একাধিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাট জেলা কাজী সমিতির সভাপতি ও সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। তিনি একটি বেসরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখার সহকারী পরিচালক ফিরোজ মিয়ার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা চিঠিতে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। একই সঙ্গে তিনি সরকার অনুমোদিত ‘আল আকসা ট্রাভেল’ নামের একটি হজ এজেন্সির মালিক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট গোকুন্ডা ইউনিয়নের ফয়জুল হোসেন মাউশির মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে আব্দুস সালামের কলেজের ইনডেক্স নম্বর R841114 উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, আব্দুস সালাম তথ্য গোপন করে একাধিক লাভজনক পেশায় যুক্ত রয়েছেন। হজ এজেন্সিটির রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় অফিস রয়েছে এবং ব্যবসায়িক কাজে বছরের একটি বড় সময় তিনি মক্কা-মদিনায় অবস্থান করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফয়জুল হোসেনের অভিযোগ, একই ব্যক্তি একাধিক পেশায় যুক্ত থাকায় কোনো দায়িত্বই যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে গোকুন্ডা ইউনিয়নে বিবাহ নিবন্ধন ও বিচ্ছেদসংক্রান্ত কার্যক্রমেও সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, লালমনিরহাট জেলার প্রায় ১২ থেকে ১৫ জন নিকাহ রেজিস্ট্রার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধনের কাজ পরিচালনা করায় বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখার সহকারী পরিচালক ফিরোজ মিয়া চিঠি দেন। এতে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সালাম বলেন, “শুধু আমি নই, সারাদেশে অনেক নিকাহ রেজিস্ট্রার শিক্ষকতাসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন। বিষয়টি দেশের এমপি-মন্ত্রীরাও অবগত আছেন।”

এ বিষয়ে মাউশি রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদের ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে মাউশির ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক (মাধ্যমিক স্কুল শাখা) রোকসানা বেগম বলেন, “কলেজ শাখার এমন একটি চিঠি এসেছে। বিষয়টি পরিচালক মহোদয় তদন্ত করবেন। স্কুল-মাদ্রাসায় কর্মরত কেউ একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়ে অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগ
জনপ্রিয়
শ্রীমঙ্গলে ২৯ পিস ইয়াবাসহ এক নারী গ্রেপ্তার 

শ্রীমঙ্গলে ২৯ পিস ইয়াবাসহ এক নারী গ্রেপ্তার 

তথ্য গোপন করে একাধিক পেশায় কাজের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

শাহিন জামান, লালমনিরহাট:

তথ্য গোপন করে একাধিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাট জেলা কাজী সমিতির সভাপতি ও সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। তিনি একটি বেসরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখার সহকারী পরিচালক ফিরোজ মিয়ার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা চিঠিতে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। একই সঙ্গে তিনি সরকার অনুমোদিত ‘আল আকসা ট্রাভেল’ নামের একটি হজ এজেন্সির মালিক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট গোকুন্ডা ইউনিয়নের ফয়জুল হোসেন মাউশির মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে আব্দুস সালামের কলেজের ইনডেক্স নম্বর R841114 উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, আব্দুস সালাম তথ্য গোপন করে একাধিক লাভজনক পেশায় যুক্ত রয়েছেন। হজ এজেন্সিটির রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় অফিস রয়েছে এবং ব্যবসায়িক কাজে বছরের একটি বড় সময় তিনি মক্কা-মদিনায় অবস্থান করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফয়জুল হোসেনের অভিযোগ, একই ব্যক্তি একাধিক পেশায় যুক্ত থাকায় কোনো দায়িত্বই যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে গোকুন্ডা ইউনিয়নে বিবাহ নিবন্ধন ও বিচ্ছেদসংক্রান্ত কার্যক্রমেও সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, লালমনিরহাট জেলার প্রায় ১২ থেকে ১৫ জন নিকাহ রেজিস্ট্রার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধনের কাজ পরিচালনা করায় বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখার সহকারী পরিচালক ফিরোজ মিয়া চিঠি দেন। এতে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সালাম বলেন, “শুধু আমি নই, সারাদেশে অনেক নিকাহ রেজিস্ট্রার শিক্ষকতাসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন। বিষয়টি দেশের এমপি-মন্ত্রীরাও অবগত আছেন।”

এ বিষয়ে মাউশি রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদের ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে মাউশির ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক (মাধ্যমিক স্কুল শাখা) রোকসানা বেগম বলেন, “কলেজ শাখার এমন একটি চিঠি এসেছে। বিষয়টি পরিচালক মহোদয় তদন্ত করবেন। স্কুল-মাদ্রাসায় কর্মরত কেউ একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়ে অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”