দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ

দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে শহরের শহীদি মসজিদ এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বড়বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী। মিছিলের আগে শহীদি মসজিদ এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খালেদ হাসান জুম্মন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ক্বারী নজরুল ইসলাম এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ বিল্লাহ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তেলের দাম বাড়লে প্রথমেই পরিবহন খাতে ব্যয় বেড়ে যায়। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়ে। এর ধারাবাহিক প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়।

তারা বলেন, এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। এর মধ্যে দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া ও পণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

বক্তারা আরও বলেন, জনগণের স্বার্থ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করে বারবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনস্বার্থে জ্বালানি তেলের দাম কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানান তারা।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের শহীদি মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। পরে মিছিলটি বড়বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আজিজুল হক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুল্লাহ, বাইতুলমাল সম্পাদক এমএইচ লোকমান, মাওলানা একেএম ছানাউল্লাহ প্রমুখ।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
বেরোবিতে বাস ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু, কমবে অপেক্ষার ভোগান্তি

বেরোবিতে বাস ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু, কমবে অপেক্ষার ভোগান্তি

দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০১:২৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে শহরের শহীদি মসজিদ এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বড়বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী। মিছিলের আগে শহীদি মসজিদ এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খালেদ হাসান জুম্মন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ক্বারী নজরুল ইসলাম এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ বিল্লাহ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তেলের দাম বাড়লে প্রথমেই পরিবহন খাতে ব্যয় বেড়ে যায়। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়ে। এর ধারাবাহিক প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়।

তারা বলেন, এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। এর মধ্যে দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া ও পণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

বক্তারা আরও বলেন, জনগণের স্বার্থ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করে বারবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনস্বার্থে জ্বালানি তেলের দাম কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানান তারা।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের শহীদি মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। পরে মিছিলটি বড়বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আজিজুল হক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুল্লাহ, বাইতুলমাল সম্পাদক এমএইচ লোকমান, মাওলানা একেএম ছানাউল্লাহ প্রমুখ।