রংপুরে টিউবওয়েল-ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

রংপুরে টিউবওয়েল-ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

রংপুর নগরীর হারাগাছ থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাহার কাছনা এলাকায় টিউবওয়েল ও পাকা ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সৌদি আরবভিত্তিক আল-হারামি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আজহার কবিরের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কারও কাছ থেকে পাঁচ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক পরিবার এখনো টিউবওয়েল কিংবা পাকা ল্যাট্রিন পায়নি। কেউ এক বছর, আবার কেউ প্রায় তিন বছর ধরে অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে এলাকার নিম্নআয়ের মানুষের কাছে টিউবওয়েল ও পাকা ল্যাট্রিন নির্মাণের কথা বলে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। শুরুতে সুবিধা পাওয়ার আশায় টাকা দিলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ না হওয়ায় এখন অনেকের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাহার কাছনার বাসিন্দা বিধবা মেহেরা বেগমের অভিযোগ, টিউবওয়েল ও পাকা ল্যাট্রিন নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এর সঙ্গে এক টলি বালুও নেওয়া হয়েছে। পরে নতুন ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল নির্মাণ করা হবে জানিয়ে তাঁর পুরোনো কাঁচা পায়খানা ও টিউবওয়েলটি ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।
জামেলা বেগম বলেন, তাঁর কাছ থেকে চার হাজার টাকা এবং তাঁর বোনের কাছ থেকেও চার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা দেওয়ার পর প্রায় এক বছর পার হলেও তাঁরা এখনো কোনো সুবিধা পাননি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁর।
আরেক ভুক্তভোগী মাহমুদা বেগম বলেন, শুরুতে তাঁর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও টাকা চাওয়া হয়। বাড়তি টাকা দিতে না পারায় এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ল্যাট্রিনের পাশাপাশি টিউবওয়েল দেওয়ার নামেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। শফিকুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, কয়েক বছর আগে টিউবওয়েল বসানোর কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে সাত হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও টিউবওয়েল দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে চার হাজার টাকা নেওয়ার পর শুধু পাইপ বসিয়ে রাখা হয়েছে। পরে আর কাজ না হওয়ায় সেগুলো এখন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে রংপুর বিভাগের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পঙ্কজ কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। তদন্তে অনিয়ম বা প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দেওয়ার আগে তাদের কার্যক্রম ও পরিচয় যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল-হারামি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আজহার কবির। তিনি বলেন, এটি সৌদি আরবভিত্তিক একটি ফাউন্ডেশনের প্রকল্প। সবার কাজ একই সময়ে করা সম্ভব হয় না। কারও কাজ আগে, আবার কারও কাজ পরে হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে কিছু কাজ শেষ করতে সময় লাগছে।
টাকা নিয়ে আত্মগোপন করার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। আজহার কবিরের দাবি, ১২০টি ইট ও এক বস্তা সিমেন্টের জন্য এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর সেই অনুযায়ী কাজ করে দেওয়া হচ্ছে। আগেও যেভাবে কাজ হয়েছে, এখনো একই প্রক্রিয়ায় কাজ চলমান রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যেসব পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের অর্থ ফেরত এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিউবওয়েল ও পাকা ল্যাট্রিন নির্মাণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
জনপ্রিয়
ইবি জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার উদ্যোগে আলিম উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

ইবি জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার উদ্যোগে আলিম উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

রংপুরে টিউবওয়েল-ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুর নগরীর হারাগাছ থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাহার কাছনা এলাকায় টিউবওয়েল ও পাকা ল্যাট্রিন দেওয়ার কথা বলে হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সৌদি আরবভিত্তিক আল-হারামি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আজহার কবিরের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কারও কাছ থেকে পাঁচ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক পরিবার এখনো টিউবওয়েল কিংবা পাকা ল্যাট্রিন পায়নি। কেউ এক বছর, আবার কেউ প্রায় তিন বছর ধরে অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে এলাকার নিম্নআয়ের মানুষের কাছে টিউবওয়েল ও পাকা ল্যাট্রিন নির্মাণের কথা বলে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। শুরুতে সুবিধা পাওয়ার আশায় টাকা দিলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ না হওয়ায় এখন অনেকের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাহার কাছনার বাসিন্দা বিধবা মেহেরা বেগমের অভিযোগ, টিউবওয়েল ও পাকা ল্যাট্রিন নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এর সঙ্গে এক টলি বালুও নেওয়া হয়েছে। পরে নতুন ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল নির্মাণ করা হবে জানিয়ে তাঁর পুরোনো কাঁচা পায়খানা ও টিউবওয়েলটি ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।
জামেলা বেগম বলেন, তাঁর কাছ থেকে চার হাজার টাকা এবং তাঁর বোনের কাছ থেকেও চার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা দেওয়ার পর প্রায় এক বছর পার হলেও তাঁরা এখনো কোনো সুবিধা পাননি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁর।
আরেক ভুক্তভোগী মাহমুদা বেগম বলেন, শুরুতে তাঁর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও টাকা চাওয়া হয়। বাড়তি টাকা দিতে না পারায় এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ল্যাট্রিনের পাশাপাশি টিউবওয়েল দেওয়ার নামেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। শফিকুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, কয়েক বছর আগে টিউবওয়েল বসানোর কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে সাত হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও টিউবওয়েল দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে চার হাজার টাকা নেওয়ার পর শুধু পাইপ বসিয়ে রাখা হয়েছে। পরে আর কাজ না হওয়ায় সেগুলো এখন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে রংপুর বিভাগের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পঙ্কজ কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। তদন্তে অনিয়ম বা প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দেওয়ার আগে তাদের কার্যক্রম ও পরিচয় যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল-হারামি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আজহার কবির। তিনি বলেন, এটি সৌদি আরবভিত্তিক একটি ফাউন্ডেশনের প্রকল্প। সবার কাজ একই সময়ে করা সম্ভব হয় না। কারও কাজ আগে, আবার কারও কাজ পরে হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে কিছু কাজ শেষ করতে সময় লাগছে।
টাকা নিয়ে আত্মগোপন করার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। আজহার কবিরের দাবি, ১২০টি ইট ও এক বস্তা সিমেন্টের জন্য এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর সেই অনুযায়ী কাজ করে দেওয়া হচ্ছে। আগেও যেভাবে কাজ হয়েছে, এখনো একই প্রক্রিয়ায় কাজ চলমান রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যেসব পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের অর্থ ফেরত এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিউবওয়েল ও পাকা ল্যাট্রিন নির্মাণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন