ব্যাংক, রাজস্ব ও জ্বালানি খাতে ‘সাহসী সংস্কার’ চায় বিশ্বব্যাংক

ব্যাংক, রাজস্ব ও জ্বালানি খাতে ‘সাহসী সংস্কার’ চায় বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং ‘সাহসী সংস্কার’ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি আর্থিক ও জ্বালানি খাতের ঝুঁকি এবং দুর্বল রাজস্ব আদায় বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি করছে।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমছে। ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে গতি এলে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।

দুর্বল বিনিয়োগ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ

বিশ্বব্যাংক বলেছে, দেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম দুর্বল হয়েছে এবং রপ্তানির প্রবৃদ্ধিও কমেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয় বেড়েছে।

আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে প্রয়োজনীয় সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে শক্তিশালী প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুত পরিস্থিতির উন্নতির কারণে দেশের বৈদেশিক খাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

বাড়ছে দারিদ্র্য, বেড়েছে খেলাপি ঋণ

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি থেমে যাওয়ার পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকিও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

রাজস্ব আদায়ও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। দেশের রাজস্ব আদায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম নিম্ন হার। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

সামাজিক সুরক্ষায় আরও কার্যকর লক্ষ্য নির্ধারণের তাগিদ

দারিদ্র্য কমাতে সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকির গুরুত্ব তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। তবে সংস্থাটির মতে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।

সুবিধাভোগী নির্বাচন আরও কার্যকর করতে সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর মাধ্যমে তথ্যভিত্তিকভাবে সুবিধাভোগী নির্বাচন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পরিবারকে কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একীভূত করে পারিবারিক কার্ডের সঙ্গে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচি আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্রুত সংস্কারের আহ্বান

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি এড়িয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে হলে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে দরিদ্র মানুষের সুরক্ষা এবং বেশি ও ভালো কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়েও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এ অঞ্চলে এআইয়ের ব্যবহার এখনো কম হলেও দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন বাজারের সুযোগ খুঁজতে এআই ব্যবহার করছে এবং সরকারগুলোও জনসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ শুরু করেছে।

ভারতে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এআইভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বাংলাদেশে এআইয়ের সহায়তায় চোখের রেটিনা পরীক্ষার মতো উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রাঞ্জিস্কা ওহন্সর্জে বলেন, এআইয়ের ব্যবহার শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি সেবা উন্নত করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তবে এআইয়ের সুফল পেতে হলে এর ব্যবহার বাধাগ্রস্ত করছে এমন মৌলিক ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৈশ্বিক ধাক্কা সামলে অঞ্চলটির অর্থনীতিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখছে। তবে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক চাপ বাড়লে প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
ডিলারশিপ চূড়ান্তের আগেই সারের সাইনবোর্ড, কুড়িগ্রামে আলোচনা

ডিলারশিপ চূড়ান্তের আগেই সারের সাইনবোর্ড, কুড়িগ্রামে আলোচনা

ব্যাংক, রাজস্ব ও জ্বালানি খাতে ‘সাহসী সংস্কার’ চায় বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় : ০১:০৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং ‘সাহসী সংস্কার’ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি আর্থিক ও জ্বালানি খাতের ঝুঁকি এবং দুর্বল রাজস্ব আদায় বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি করছে।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমছে। ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে গতি এলে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।

দুর্বল বিনিয়োগ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ

বিশ্বব্যাংক বলেছে, দেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম দুর্বল হয়েছে এবং রপ্তানির প্রবৃদ্ধিও কমেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয় বেড়েছে।

আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে প্রয়োজনীয় সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে শক্তিশালী প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুত পরিস্থিতির উন্নতির কারণে দেশের বৈদেশিক খাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

বাড়ছে দারিদ্র্য, বেড়েছে খেলাপি ঋণ

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি থেমে যাওয়ার পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকিও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

রাজস্ব আদায়ও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। দেশের রাজস্ব আদায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম নিম্ন হার। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

সামাজিক সুরক্ষায় আরও কার্যকর লক্ষ্য নির্ধারণের তাগিদ

দারিদ্র্য কমাতে সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকির গুরুত্ব তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। তবে সংস্থাটির মতে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।

সুবিধাভোগী নির্বাচন আরও কার্যকর করতে সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর মাধ্যমে তথ্যভিত্তিকভাবে সুবিধাভোগী নির্বাচন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পরিবারকে কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একীভূত করে পারিবারিক কার্ডের সঙ্গে বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচি আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্রুত সংস্কারের আহ্বান

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি এড়িয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে হলে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে দরিদ্র মানুষের সুরক্ষা এবং বেশি ও ভালো কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়েও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এ অঞ্চলে এআইয়ের ব্যবহার এখনো কম হলেও দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন বাজারের সুযোগ খুঁজতে এআই ব্যবহার করছে এবং সরকারগুলোও জনসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ শুরু করেছে।

ভারতে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এআইভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বাংলাদেশে এআইয়ের সহায়তায় চোখের রেটিনা পরীক্ষার মতো উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রাঞ্জিস্কা ওহন্সর্জে বলেন, এআইয়ের ব্যবহার শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি সেবা উন্নত করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তবে এআইয়ের সুফল পেতে হলে এর ব্যবহার বাধাগ্রস্ত করছে এমন মৌলিক ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৈশ্বিক ধাক্কা সামলে অঞ্চলটির অর্থনীতিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখছে। তবে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক চাপ বাড়লে প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে।