বাড়তি দামেও মিলছে না এলপি গ্যাস, সংকটে ভোক্তারা

বাড়তি দামেও মিলছে না এলপি গ্যাস, সংকটে ভোক্তারা

এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর বাজারে দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি অর্থ দিয়েও অনেক জায়গায় মিলছে না সিলিন্ডার। ভোক্তাদের অভিযোগ, বিশেষ করে ৩৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের তুলনায় এক হাজার টাকারও বেশি অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।

এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস বিক্রি করে ব্যবসা করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হলে প্রয়োজনে সারাদেশে এলপি গ্যাসের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এবার নতুন করে বাড়ানো হয়েছে এলপি গ্যাসের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। রবিবার রাত থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

দাম বাড়ানোর পর থেকেই বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। একদিকে বাজারে এলপিজির সরবরাহ নিয়ে সংকট, অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে বাড়ছে অসন্তোষ।

সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারী কয়েকজন ভোক্তা জানান, নির্ধারিত দাম অনুযায়ী অনেক জায়গায় এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ৩৫ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে রান্নার খরচের পাশাপাশি সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে।

তবে ভোক্তাদের অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা। তাদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন। ব্যবসায়ীদের পরিবহন, পরিচালনাসহ অন্যান্য ব্যয়ের সঙ্গে বাজারমূল্যের সমন্বয় না থাকায় লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

ব্যবসায়ী নেতারা আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ করায় ভোক্তা ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই সমস্যায় পড়ছে। তাদের মতে, গণশুনানি ছাড়া নতুন করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তও যৌক্তিক নয়। দাম নির্ধারণে বিইআরসির সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে এলপিজির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারে ১২ টাকা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা।

এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর আরও বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রান্নার জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে এর প্রভাব অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
ফরিদপুরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ভুয়া সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ভুয়া সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

বাড়তি দামেও মিলছে না এলপি গ্যাস, সংকটে ভোক্তারা

আপডেট সময় : ১১:০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর বাজারে দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি অর্থ দিয়েও অনেক জায়গায় মিলছে না সিলিন্ডার। ভোক্তাদের অভিযোগ, বিশেষ করে ৩৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের তুলনায় এক হাজার টাকারও বেশি অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।

এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস বিক্রি করে ব্যবসা করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হলে প্রয়োজনে সারাদেশে এলপি গ্যাসের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এবার নতুন করে বাড়ানো হয়েছে এলপি গ্যাসের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। রবিবার রাত থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

দাম বাড়ানোর পর থেকেই বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। একদিকে বাজারে এলপিজির সরবরাহ নিয়ে সংকট, অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে বাড়ছে অসন্তোষ।

সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারী কয়েকজন ভোক্তা জানান, নির্ধারিত দাম অনুযায়ী অনেক জায়গায় এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ৩৫ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে রান্নার খরচের পাশাপাশি সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে।

তবে ভোক্তাদের অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা। তাদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন। ব্যবসায়ীদের পরিবহন, পরিচালনাসহ অন্যান্য ব্যয়ের সঙ্গে বাজারমূল্যের সমন্বয় না থাকায় লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

ব্যবসায়ী নেতারা আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ করায় ভোক্তা ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই সমস্যায় পড়ছে। তাদের মতে, গণশুনানি ছাড়া নতুন করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তও যৌক্তিক নয়। দাম নির্ধারণে বিইআরসির সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে এলপিজির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারে ১২ টাকা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা।

এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর আরও বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রান্নার জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে এর প্রভাব অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।