এশিয়া-ইউরোপের ডাটা সেন্টার ও সাবমেরিন ক্যাবলে হামলার হুমকি ইরানের

এশিয়া-ইউরোপের ডাটা সেন্টার ও সাবমেরিন ক্যাবলে হামলার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ইন্টারনেটের গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন ক্যাবল, ডাটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে ইরান। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই হুমকি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কাতারের সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, পারস্য উপসাগর ও হোরমুজ প্রণালি সংলগ্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন অত্যন্ত মূল্যবান বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখনও পর্যন্ত আমরা এসব সম্পদকে আমাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করিনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে এসব ক্যাবল, ডাটা সেন্টার এবং এআই কেন্দ্রগুলোর একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগরের তলদেশে অবস্থিত ফাইবার অপটিক ক্যাবলগুলোর ওপর এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার ৯০০ শতাংশেরও বেশি ডাটা আদান-প্রদান নির্ভরশীল। সম্প্রতি ইয়েমেনের বাব আল-মানদেবে ইরান-সমর্থিত হুথিদের শক্ত অবস্থান এই ক্যাবলগুলোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইতোপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বেশ কিছু মার্কিন ডাটা সেন্টারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ওই হামলায় আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক সার্ভারগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং গ্রাহকদের বিপুল ডেটা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়।

সাইবার ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও ইয়েমেনের কৌশলগত অবস্থানের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের ইন্টারনেট অবকাঠামো এখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ইরানের এই নতুন হুমকি কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক ইন্টারনেট যোগাযোগ ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
শান্তিগঞ্জের বগুলারকাড়া গ্রামের স্কুল মাঠে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো দাওয়াতী উৎসব

শান্তিগঞ্জের বগুলারকাড়া গ্রামের স্কুল মাঠে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো দাওয়াতী উৎসব

এশিয়া-ইউরোপের ডাটা সেন্টার ও সাবমেরিন ক্যাবলে হামলার হুমকি ইরানের

আপডেট সময় : ১০:৪৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ইন্টারনেটের গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন ক্যাবল, ডাটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে ইরান। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই হুমকি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কাতারের সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, পারস্য উপসাগর ও হোরমুজ প্রণালি সংলগ্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন অত্যন্ত মূল্যবান বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখনও পর্যন্ত আমরা এসব সম্পদকে আমাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করিনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে এসব ক্যাবল, ডাটা সেন্টার এবং এআই কেন্দ্রগুলোর একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগরের তলদেশে অবস্থিত ফাইবার অপটিক ক্যাবলগুলোর ওপর এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার ৯০০ শতাংশেরও বেশি ডাটা আদান-প্রদান নির্ভরশীল। সম্প্রতি ইয়েমেনের বাব আল-মানদেবে ইরান-সমর্থিত হুথিদের শক্ত অবস্থান এই ক্যাবলগুলোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইতোপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বেশ কিছু মার্কিন ডাটা সেন্টারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ওই হামলায় আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক সার্ভারগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং গ্রাহকদের বিপুল ডেটা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়।

সাইবার ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও ইয়েমেনের কৌশলগত অবস্থানের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের ইন্টারনেট অবকাঠামো এখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ইরানের এই নতুন হুমকি কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক ইন্টারনেট যোগাযোগ ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।