পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দীর্ঘ ১৮ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে ৫৭ শতক জমির দখল ফিরে পেয়েছেন আসাদুজ্জামান, আরিফুজ্জামান ও তানজিনা বেগম গং।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের মাঝগ্রামে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় জমির সীমানা নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পঞ্চগড় সিভিল জজ আদালতের জারিকারক কমল চন্দ্র সেনের নেতৃত্বে আদালতের একটি প্রতিনিধি দল এ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ সময় সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরে লাল নিশান স্থাপন এবং ঢাকঢোল পিটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দখল হস্তান্তর করা হয়।
জমির দখল ফিরে পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের মাঝগ্রাম এলাকার আসাদুজ্জামান, আরিফুজ্জামান ও তানজিনা বেগম গং।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবনগর ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী মৌজার দুটি খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৫৭ শতক জমির মালিকানা নিয়ে আসাদুজ্জামান গংদের সঙ্গে একই এলাকার কলেজপাড়া এলাকার খতিবর রহমান গংদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে ২০০৮ সালে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় জমির দাবিদারদের।
মামলার দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পঞ্চগড়ের বিজ্ঞ সিভিল আদালত ২০২৪ সালের ২৯/২০২৪ নম্বর বাটোয়ারা মোকদ্দমায় আসাদুজ্জামান, আরিফুজ্জামান ও তানজিনা বেগম গংদের পক্ষে ডিক্রি প্রদান করেন। পরে বিবাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর জমির দখল ফিরে পাওয়ার আইনি পথ সুগম হয়।
দীর্ঘদিন পর জমির দখল ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “বাবার মৃত্যুর পর খতিবর রহমান গংরা আমাদের জমি বেদখল করেন। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এই জমির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। ২০০৮ সালে মামলা করার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আজ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছি। এ জন্য প্রশাসন ও বিচার বিভাগের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
এদিকে, দখল বুঝিয়ে দেওয়ার সময় ওই জমিতে আমন ধানসহ ফসল থাকায় তা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে মানবিক বিবেচনায় জমিতে থাকা ফসলের উৎপাদন খরচ কৃষকদের দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন জমির দখল ফিরে পাওয়া মালিকরা।
আদালতের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালতের রায় অনুযায়ী জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পর বিবাদীপক্ষের আর ওই জমিতে অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই।
আদালতের জারিকারক কমল চন্দ্র সেন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত স্বত্বাধিকারীদের ৫৭ শতক জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।”
দীর্ঘ দেড় যুগের আইনি লড়াই শেষে জমির দখল ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মালিকপক্ষ। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




















