ফকিরহাটে সার্টিফিকেট সহকারী নিত্যানন্দ সাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ

ফকিরহাটে সার্টিফিকেট সহকারী নিত্যানন্দ সাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ

ফকিরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী নিত্যানন্দ সাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ দাবি, সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত থাকার সুবাদে নিত্যানন্দ সাহা অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছেন। এতে সাধারণ সেবাপ্রার্থী থেকে শুরু করে অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পিআইসি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, একজন মহিলা সদস্যকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি দেখিয়ে একটি কাজ সম্পন্ন করা হলেও সংশ্লিষ্ট সভাপতি নাকি নিজের নামে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি জানতেনই না। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।

এমন অভিযোগ সত্য হলে তা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র, অনুমোদন, বিল-ভাউচার এবং প্রকৃত কাজের বাস্তবতা যাচাই করে বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে।

সরকারি বরাদ্দ ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য ও অন্যান্য খরচের হিসাবেও অনিয়ম করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের ব্যানার তৈরির ব্যয় প্রকৃত খরচের তুলনায় বেশি দেখিয়ে বিল করা এবং নিজস্ব পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

এ ছাড়া ছোটখাটো বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদার ও কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ বা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সরকারি হিসাব, বিল-ভাউচার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সেবা পেতে হয়রানির অভিযোগ

নিত্যানন্দ সাহার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, দরখাস্ত গ্রহণের পর তা খুঁজে না পাওয়া এবং পরবর্তীতে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রয়োজনে অফিসে আবেদন করার পর অনেক সময় আবেদনপত্রের খোঁজ পাওয়া যায় না। পুনরায় খোঁজ নিতে গেলে তিক্ত আচরণের শিকার হতে হয়। এমনকি নারী সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের সামনেও এ ধরনের আচরণের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের কক্ষ ব্যবহারের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষ দীর্ঘ সময় ফাঁকা থাকলে নিত্যানন্দ সাহা ওই কক্ষটি নিজের মতো করে ব্যবহার করতেন এবং সেখানে একাধিক এসি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি ও সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অফিসের স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে, জবাবদিহি কোথায়?

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন কর্মচারী দীর্ঘ সময় ধরে একই উপজেলা কার্যালয়ে কর্মরত থাকলে তাঁর কার্যক্রমের নিয়মিত মূল্যায়ন, বদলি নীতি ও জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে?

বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে একচ্ছত্র ধারণা ও প্রভাব তৈরি করেছেন। ফলে নতুন কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগদান করলেও অফিসের কিছু কার্যক্রম সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া এবং অভিযোগগুলো যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

তবে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র, কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ, বদলি নীতিমালা এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

ফকিরহাটের ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, সার্টিফিকেট সহকারী নিত্যানন্দ সাহার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক।

তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে—

১. অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।

২. পিআইসি প্রকল্পের নথি, বিল-ভাউচার ও বাস্তব কাজ যাচাই।

৩. সরকারি অনুষ্ঠান ও খাদ্য বরাদ্দের ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা।

৪. ঘুষ দাবি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত।

৫. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহণ।

৬. অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

৭. সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক জবাবদিহি বৃদ্ধি।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, একজন সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব জনগণকে সেবা প্রদান করা; কোনোভাবেই জনগণকে হয়রানি করা বা সরকারি কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করা নয়।

তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিত্যানন্দ সাহার বক্তব্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি।

প্রশ্ন উঠছে—ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উত্থাপিত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কবে? সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে প্রশাসন কি এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?

ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং সরকারি সেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
ছাতকে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, থানায় নারীর আবেদন

ছাতকে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, থানায় নারীর আবেদন

ফকিরহাটে সার্টিফিকেট সহকারী নিত্যানন্দ সাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৫০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ফকিরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী নিত্যানন্দ সাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ দাবি, সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত থাকার সুবাদে নিত্যানন্দ সাহা অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছেন। এতে সাধারণ সেবাপ্রার্থী থেকে শুরু করে অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পিআইসি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, একজন মহিলা সদস্যকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি দেখিয়ে একটি কাজ সম্পন্ন করা হলেও সংশ্লিষ্ট সভাপতি নাকি নিজের নামে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি জানতেনই না। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।

এমন অভিযোগ সত্য হলে তা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র, অনুমোদন, বিল-ভাউচার এবং প্রকৃত কাজের বাস্তবতা যাচাই করে বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে।

সরকারি বরাদ্দ ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য ও অন্যান্য খরচের হিসাবেও অনিয়ম করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের ব্যানার তৈরির ব্যয় প্রকৃত খরচের তুলনায় বেশি দেখিয়ে বিল করা এবং নিজস্ব পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

এ ছাড়া ছোটখাটো বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদার ও কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ বা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সরকারি হিসাব, বিল-ভাউচার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সেবা পেতে হয়রানির অভিযোগ

নিত্যানন্দ সাহার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, দরখাস্ত গ্রহণের পর তা খুঁজে না পাওয়া এবং পরবর্তীতে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রয়োজনে অফিসে আবেদন করার পর অনেক সময় আবেদনপত্রের খোঁজ পাওয়া যায় না। পুনরায় খোঁজ নিতে গেলে তিক্ত আচরণের শিকার হতে হয়। এমনকি নারী সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের সামনেও এ ধরনের আচরণের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের কক্ষ ব্যবহারের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষ দীর্ঘ সময় ফাঁকা থাকলে নিত্যানন্দ সাহা ওই কক্ষটি নিজের মতো করে ব্যবহার করতেন এবং সেখানে একাধিক এসি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি ও সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অফিসের স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে, জবাবদিহি কোথায়?

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন কর্মচারী দীর্ঘ সময় ধরে একই উপজেলা কার্যালয়ে কর্মরত থাকলে তাঁর কার্যক্রমের নিয়মিত মূল্যায়ন, বদলি নীতি ও জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে?

বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে একচ্ছত্র ধারণা ও প্রভাব তৈরি করেছেন। ফলে নতুন কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগদান করলেও অফিসের কিছু কার্যক্রম সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া এবং অভিযোগগুলো যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

তবে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র, কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ, বদলি নীতিমালা এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

ফকিরহাটের ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, সার্টিফিকেট সহকারী নিত্যানন্দ সাহার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক।

তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে—

১. অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।

২. পিআইসি প্রকল্পের নথি, বিল-ভাউচার ও বাস্তব কাজ যাচাই।

৩. সরকারি অনুষ্ঠান ও খাদ্য বরাদ্দের ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা।

৪. ঘুষ দাবি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত।

৫. সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহণ।

৬. অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

৭. সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক জবাবদিহি বৃদ্ধি।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, একজন সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব জনগণকে সেবা প্রদান করা; কোনোভাবেই জনগণকে হয়রানি করা বা সরকারি কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করা নয়।

তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিত্যানন্দ সাহার বক্তব্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি।

প্রশ্ন উঠছে—ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উত্থাপিত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কবে? সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে প্রশাসন কি এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?

ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং সরকারি সেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।