নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
কিছুদিন আগে ও নেত্রকোনা জেলার উন্মুক্ত জলাশয়গুলো বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু দেশীয় মাছে ভরপুর ছিল।অতি মুনাফালোভী মানুষের ব্যবহৃত সর্বনাশা ‘চায়না দুয়ারি’ জালের কারণে জেলার সেই চিরচেনা দেশীয় মাছের ভাণ্ডারে আজ বদলে গেছে চিত্র। চায়না জালে আটকা পড়ে নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে ডিমওয়ালা মা-মাছ ও ছোট পোনা।কেন্দুয়া উপজেলা প্রশাসন অবৈধ চায়না জাল ধ্বংস করে এগিয়ে এসেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু করে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা অভিযান চলে। উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের তাম্বুলিপাড়া এলাকা এবং চিরাং ইউনিয়নের কালিয়ানের বিস্তীর্ণ বিলে পৃথক দুটি মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এ অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন,উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী। সার্বিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুনসহ পুলিশের একটি দল।
দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার তল্লাশি অভিযানে জলাশয়ের তলদেশে পেতে রাখা ৮২টি নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জব্দকৃত এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য চার লাখ ১০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে জনসমক্ষে জালগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে চিরতরে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত সহজভাবে এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশেষ এই জালের বুনন এতটাই সূক্ষ্ম যে, এতে বড় মাছের পাশাপাশি জলাশয়ের ছোট পোনা এবং ডিমওয়ালা মাছও নির্মমভাবে আটকা পড়ে যায়। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির স্বাভাবিক চক্র পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে যেমন দেশীয় প্রজাতির মাছ নিধন হচ্ছে, অন্যদিকে জলাশয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে আমাদের দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা ও সামগ্রিক জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর। ঠিক এ কারণেই মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ আইনে এ ধরনের জাল তৈরি, বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
তিনি আরও জানান,উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জাতীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে তাদের এমন অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।




















