মো. আরফান হোসেন বাবর,হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২৮ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৩৩ জন এবং অক্টোবর মাসে ৩৭ জন রোগী ভর্তি হন। ভর্তি হওয়া ৯৮ জনের মধ্যে ৯৭ জন চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতালের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং হাসপাতাল এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ স্প্রে করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা বেড, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুদ রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীর হাসান জিকো
বলেন-ডেঙ্গু নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অসচেতন থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ, বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য বিভাগের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ও বিভিন্ন পাত্রে পানি জমতে না দেওয়া এবং দিনে-রাতে মশারি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণই পারে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা ও সতর্কতা।





















