স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: শফিকুল ইসলাম শফিক:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী মহিষখলা বাজার গুদারাঘাট এলাকায় নদীতে কুমির দেখা গেছে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব বলে প্রমাণিত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গুদারাঘাটে কুমির দেখা গেছে এমন একটি ভুয়া ছবি ও তথ্য কয়েকটি ফেসবুক পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সত্যতা যাচাই না করেই কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াও তা হুবহু কপি করে প্রচার করে। এতে মুহূর্তেই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সরেজমিনে গিয়ে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কথা হয় নদীপাড়ের বাসিন্দা মো. আসাম উদ্দিনের সাথে। যার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঠিক ওই গুদারাঘাটেই অবস্থিত, যেখানে কুমির দেখার দাবি করা হয়েছে।
আসাম উদ্দিন বলেন, “আমার বাড়ি নদীর পাড়ে, দোকানও নদীর পাড়ে। যে জায়গায় কুমিরের কথা বলা হচ্ছে, ওই জায়গাতেই আমি দিনরাত থাকি। আমি কোনোদিন কুমির দেখি নাই। এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও গুজব।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মুসলিম উদ্দিন বলেন, “আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে এই ঘাটে বসবাস করি, নদীতে প্রতিদিন গোসল করি, জাল ফেলি। এই নদীতে কুমির থাকার প্রশ্নই আসে না। ফেসবুকে ভুয়া ছবি ছড়িয়ে আমাদের এলাকার বদনাম করা হচ্ছে। আমরা এই গুজবের তীব্র নিন্দা জানাই।”
স্থানীয় জেলে ও সাধারণ এলাকাবাসীরাও জানান, তারা প্রতিদিন নদীতে মাছ ধরেন ও গোসল করেন, কুমিরের কোনো অস্তিত্ব তারা কখনো দেখেননি।
স্থানীয় সচেতন মহল এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সকল ফেসবুক পেজ ও মিডিয়াকে যাচাই-বাছাই করে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন।





















