সাজেক’ সংকট: একপক্ষের শিথিল, নতুন আরেক পক্ষের পাল্টা অবরোধের ডাক

সাজেক’ সংকট: একপক্ষের শিথিল, নতুন আরেক পক্ষের পাল্টা অবরোধের ডাক

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

গত ২২ অক্টোবর থেকে ‘সাজেক’ ইস্যুতে থেমে থেমে চলা খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়ক অবরোধের আজ রোববার ছিল দশম দিন। নানা বৈরী বাস্তবতায় অবরোধ আহ্বানকারী ‘সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি’ এবং ‘সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সড়ক অবরোধ আজ রোববার (১ নভেম্বর) শিথিলের ঘোষণা দেয়া হয়। সংগঠনদুটির নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুনজয় চাকমা প্রেরিত বার্তায় জানান, সাজেক এলাকার সাধারণ জনগণের মৌলিক চাহিদা এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের চলমান মাসব্যাপি কঠিন চীবর দান উৎসবের কথা উল্লেখ করা হয়।


কিন্তু এই ঘোষণা শুধু একদিনের জন্য শিথিল কেনো এটি জানার পর থেকে অন্য একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টা সড়ক অবরোধের প্রচারণা চালাতে থাকেন। তারই জেরে শনিবার রাতে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি’ নামে জনৈক বিন্দু লাল চাকমা (সদস্য-সচিব) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপর্যুক্ত সড়কে পাল্টা অবরোধের ডাক দেয়া হয়। ফলে সপ্তাহের প্রথম খোলার দিন হলেও রোববার খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করছে না। পাল্টা অবরোধ ডাকা সংগঠনের কাউকে মাঠে দেখা না গেলেও সাজেক সড়কে চলাচলকারী খাগড়াছড়ির পরিবহন চালক-শ্রমিকদের পাল্টা অবরোধে বেশ সক্রিয় দেখা গেছে। রোববার সকাল সাড়ে আটটায় সরেজমিনে খাগড়াছড়ি জেলাশহরের ন্যান্সী বাজার এলাকায় অবস্থিত দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি স্টেশনে চাকুরীজীবি এবং ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের জটলা দেখা গেছে। কোন প্রকার যানবাহন না পেয়ে অনেকে হতাশা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

মিতালী চাকমা। সড়ক অবরোধ শিথিলের খবর পেয়ে মারিশ্যা (বাঘাইছড়ি) অসুস্থ মাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে এসেছেন। এখন পাল্টা অবরোধে পড়ে তিনি নিজেই বেকায়দায় পড়েছেন। দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো. মুনির। তিনি কলেজের পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে যাওয়া জরুরী। কিন্তু গাড়ি না পেয়ে বাসায় ফেরেন। স্বাভাবিক সময়ের মতো কিছু ভাড়াটিয়া যাত্রীবাহী মোটরবাইক চালক যাত্রী নিতে চাইলে অন্য পরিবহনের চালক-শ্রমিকদের বাধায় নিতে পারছেন না।

পরিবহন শ্রমিক জসীম উদ্দিন জানান, দুটি সংগঠন পর্যটনের ভরা মৌসুমে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য পুরো পরিবহন সেক্টরকেই জিম্মি করে ফেলেছে। নিজেদের খেয়াল খুশিমতো সড়ক অবরোধ ডাকবে আর তুলবে; এটা হতে পারে না। একদিনের শিথিল মানি না। তাই আমরাও পাল্টা সর্বাত্মক সাজেক অবরোধের পথ ধরেছি।
জহিরঞ্জন ত্রিপুরা। পরিবহন শ্রমিক। তিনি জানান, আমরা দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষ। মনে করেছিলাম আজ অনেকদিন পর যাত্রী নিয়ে দীঘিনালা-সাজেক যাবো। কিছু আয় হবে। এখন তো আবারও সব বন্ধ।

খাগড়াছড়ি’র পরিবহন নেতা মীর হোসেন ও আয়ুস কান্তি চাকমা জানান, এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে চলমান আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা দরকার। এটার স্থায়ী সমাধান না হলে চলমান পর্যটন মৌসুমে সব ধরনের ব্যবসা ভেস্তে যাবে। হাজার হাজার মানুষের জীবিকা ভয়াবহ সঙ্কটে পড়বে।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
শাজাহানপুরে চুরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোটরসাইকেল উদ্ধার, টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার ১

শাজাহানপুরে চুরির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোটরসাইকেল উদ্ধার, টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার ১

সাজেক’ সংকট: একপক্ষের শিথিল, নতুন আরেক পক্ষের পাল্টা অবরোধের ডাক

আপডেট সময় : ১১:২৭:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

গত ২২ অক্টোবর থেকে ‘সাজেক’ ইস্যুতে থেমে থেমে চলা খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়ক অবরোধের আজ রোববার ছিল দশম দিন। নানা বৈরী বাস্তবতায় অবরোধ আহ্বানকারী ‘সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি’ এবং ‘সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সড়ক অবরোধ আজ রোববার (১ নভেম্বর) শিথিলের ঘোষণা দেয়া হয়। সংগঠনদুটির নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুনজয় চাকমা প্রেরিত বার্তায় জানান, সাজেক এলাকার সাধারণ জনগণের মৌলিক চাহিদা এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের চলমান মাসব্যাপি কঠিন চীবর দান উৎসবের কথা উল্লেখ করা হয়।


কিন্তু এই ঘোষণা শুধু একদিনের জন্য শিথিল কেনো এটি জানার পর থেকে অন্য একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টা সড়ক অবরোধের প্রচারণা চালাতে থাকেন। তারই জেরে শনিবার রাতে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি’ নামে জনৈক বিন্দু লাল চাকমা (সদস্য-সচিব) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপর্যুক্ত সড়কে পাল্টা অবরোধের ডাক দেয়া হয়। ফলে সপ্তাহের প্রথম খোলার দিন হলেও রোববার খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করছে না। পাল্টা অবরোধ ডাকা সংগঠনের কাউকে মাঠে দেখা না গেলেও সাজেক সড়কে চলাচলকারী খাগড়াছড়ির পরিবহন চালক-শ্রমিকদের পাল্টা অবরোধে বেশ সক্রিয় দেখা গেছে। রোববার সকাল সাড়ে আটটায় সরেজমিনে খাগড়াছড়ি জেলাশহরের ন্যান্সী বাজার এলাকায় অবস্থিত দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি স্টেশনে চাকুরীজীবি এবং ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের জটলা দেখা গেছে। কোন প্রকার যানবাহন না পেয়ে অনেকে হতাশা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

মিতালী চাকমা। সড়ক অবরোধ শিথিলের খবর পেয়ে মারিশ্যা (বাঘাইছড়ি) অসুস্থ মাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে এসেছেন। এখন পাল্টা অবরোধে পড়ে তিনি নিজেই বেকায়দায় পড়েছেন। দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো. মুনির। তিনি কলেজের পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে যাওয়া জরুরী। কিন্তু গাড়ি না পেয়ে বাসায় ফেরেন। স্বাভাবিক সময়ের মতো কিছু ভাড়াটিয়া যাত্রীবাহী মোটরবাইক চালক যাত্রী নিতে চাইলে অন্য পরিবহনের চালক-শ্রমিকদের বাধায় নিতে পারছেন না।

পরিবহন শ্রমিক জসীম উদ্দিন জানান, দুটি সংগঠন পর্যটনের ভরা মৌসুমে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য পুরো পরিবহন সেক্টরকেই জিম্মি করে ফেলেছে। নিজেদের খেয়াল খুশিমতো সড়ক অবরোধ ডাকবে আর তুলবে; এটা হতে পারে না। একদিনের শিথিল মানি না। তাই আমরাও পাল্টা সর্বাত্মক সাজেক অবরোধের পথ ধরেছি।
জহিরঞ্জন ত্রিপুরা। পরিবহন শ্রমিক। তিনি জানান, আমরা দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষ। মনে করেছিলাম আজ অনেকদিন পর যাত্রী নিয়ে দীঘিনালা-সাজেক যাবো। কিছু আয় হবে। এখন তো আবারও সব বন্ধ।

খাগড়াছড়ি’র পরিবহন নেতা মীর হোসেন ও আয়ুস কান্তি চাকমা জানান, এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে চলমান আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা দরকার। এটার স্থায়ী সমাধান না হলে চলমান পর্যটন মৌসুমে সব ধরনের ব্যবসা ভেস্তে যাবে। হাজার হাজার মানুষের জীবিকা ভয়াবহ সঙ্কটে পড়বে।