মাদারগঞ্জে মরিচক্ষেতে অজানা রোগের হানা, পাশে নেই কৃষি কর্মকর্তা

মাদারগঞ্জে মরিচক্ষেতে অজানা রোগের হানা, পাশে নেই কৃষি কর্মকর্তা
তোফায়েল হোসেন মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি :
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায়  কড়ইচড়া ইউনিয়নের বিনোদটঙ্গী এলাকায় প্রায় পাঁচ একর জমির মরিচক্ষেতে অজ্ঞাত রোগে মরিচগাছ মরে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। গাছে মরিচ আসতে শুরু করলেও একের পর এক গাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছেন না কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে মরিচের আবাদ। গাছে গাছে মরিচ ধরতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কিছু গাছের ডালপালা শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার কিছু গাছ পুরোপুরি মরে গেছে। ফলে ফলন পাওয়ার আগেই বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় সাতজন কৃষক প্রায় পাঁচ একর জমিতে বগি, পিউর ও প্রিমিয়াম জাতের মরিচ চাষ করেছেন। গাছে মরিচ ধরতে শুরু করার পর এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সামাদ ৪৬ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। গাছে মরিচ আসতে শুরু করায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তিনি। মরিচ বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্নও দেখছিলেন। কিন্তু গাছ মরে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চিত।
আব্দুস সামাদ বলেন, গত সপ্তাহ থেকে মরিচগাছে রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে। বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছি না। কৃষি অফিস থেকে কেউ আমাদের খোঁজখবর নেননি।
আরেক কৃষক এনছ মণ্ডল বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে মরিচক্ষেতের  সমস্যার কথা জানিয়েছেন। ফোনে গাছ মরে যাওয়ার বিষয়টি জানালে সমস্যার কারণ অনুসন্ধানের পরিবর্তে উল্টো নানা প্রশ্ন করা হয় এবং কৃষকদেরই দোষারোপ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। কৃষক এনছ মণ্ডল আরও জানান কৃষি কর্মকর্তা মহোদয়কে ফসলের সমস্যার কথা জানানোর পরেও এখন পর্যন্ত তিনি সরেজমিনে এসে খোঁজখবর নেননি।
এ ছাড়া কৃষক শহীদুল ইসলাম ও নুর ইসলামেরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, মরিচগাছে কী ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করা যাচ্ছে না। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা।
এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মিয়া বলেন, তিনি সিধুলী ইউনিয়নে কৃষি কার্ডের কাজ করছেন। তার মূল দায়িত্ব গুনারীতলা ইউনিয়নের খুদ্দ জোনাইল এলাকায়। পাশাপাশি বিনোদটঙ্গী এলাকাতেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। একাধিক এলাকায় দায়িত্ব পালন ও কৃষি কার্ডের কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মরিচক্ষেত পরিদর্শনে যেতে পারেননি বলে জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিসে আসতে বলেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন, রোগ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
ট্যাগ
জনপ্রিয়
শেরপুরে উপজেলা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শেরপুরে উপজেলা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মাদারগঞ্জে মরিচক্ষেতে অজানা রোগের হানা, পাশে নেই কৃষি কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
তোফায়েল হোসেন মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি :
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায়  কড়ইচড়া ইউনিয়নের বিনোদটঙ্গী এলাকায় প্রায় পাঁচ একর জমির মরিচক্ষেতে অজ্ঞাত রোগে মরিচগাছ মরে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। গাছে মরিচ আসতে শুরু করলেও একের পর এক গাছ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছেন না কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে মরিচের আবাদ। গাছে গাছে মরিচ ধরতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কিছু গাছের ডালপালা শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার কিছু গাছ পুরোপুরি মরে গেছে। ফলে ফলন পাওয়ার আগেই বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় সাতজন কৃষক প্রায় পাঁচ একর জমিতে বগি, পিউর ও প্রিমিয়াম জাতের মরিচ চাষ করেছেন। গাছে মরিচ ধরতে শুরু করার পর এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সামাদ ৪৬ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। গাছে মরিচ আসতে শুরু করায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তিনি। মরিচ বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্নও দেখছিলেন। কিন্তু গাছ মরে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চিত।
আব্দুস সামাদ বলেন, গত সপ্তাহ থেকে মরিচগাছে রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে। বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছি না। কৃষি অফিস থেকে কেউ আমাদের খোঁজখবর নেননি।
আরেক কৃষক এনছ মণ্ডল বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে মরিচক্ষেতের  সমস্যার কথা জানিয়েছেন। ফোনে গাছ মরে যাওয়ার বিষয়টি জানালে সমস্যার কারণ অনুসন্ধানের পরিবর্তে উল্টো নানা প্রশ্ন করা হয় এবং কৃষকদেরই দোষারোপ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। কৃষক এনছ মণ্ডল আরও জানান কৃষি কর্মকর্তা মহোদয়কে ফসলের সমস্যার কথা জানানোর পরেও এখন পর্যন্ত তিনি সরেজমিনে এসে খোঁজখবর নেননি।
এ ছাড়া কৃষক শহীদুল ইসলাম ও নুর ইসলামেরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, মরিচগাছে কী ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করা যাচ্ছে না। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা।
এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মিয়া বলেন, তিনি সিধুলী ইউনিয়নে কৃষি কার্ডের কাজ করছেন। তার মূল দায়িত্ব গুনারীতলা ইউনিয়নের খুদ্দ জোনাইল এলাকায়। পাশাপাশি বিনোদটঙ্গী এলাকাতেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। একাধিক এলাকায় দায়িত্ব পালন ও কৃষি কার্ডের কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মরিচক্ষেত পরিদর্শনে যেতে পারেননি বলে জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিসে আসতে বলেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন, রোগ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন