নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে দেড় লক্ষাধিক মানুষ

নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে দেড় লক্ষাধিক মানুষ

চিকিৎসাসেবায় অগ্রগতি, তবু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সংকট; দ্রুত মেশিন সচলের দাবি

আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে সেবা। এতে উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে এ পরীক্ষা করানোর সুযোগ না থাকায় রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ছে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, হাড় ভাঙা রোগী কিংবা বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় সঠিক রোগনির্ণয়ের জন্য এক্স-রে পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকলে রোগী ও স্বজনদের বাড়তি সমস্যায় পড়তে হয়। নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবাটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম এক্স-রে সেবা চালু হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই মেশিনটি অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ বিরতির পর গত বছর পুনরায় সেবা চালু করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই আবার বিকল হয়ে যায় যন্ত্রটি। এরপর থেকে হাসপাতালটিতে এক্স-রে পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি সংযোজন, ওষুধ সরবরাহ, সার্বক্ষণিক জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্নার (এনসিডি কর্নার) চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে এক্স-রে মেশিন অচল থাকায় প্রয়োজনীয় এই পরীক্ষার ক্ষেত্রে সেবার ঘাটতি রয়ে গেছে।

নিকলী ও আশপাশের হাওরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে নিম্নআয়ের রোগীদের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে এক্স-রে করানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর সুযোগ না থাকায় চিকিৎসার ব্যয় ও ভোগান্তি—দুটিই বাড়ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজীব ঘোষের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালটির বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এক্স-রে মেশিনটি পুনরায় সচল করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পদক্ষেপ, মেরামতের সম্ভাব্য সময়সীমা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করে চালু করা অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

ট্যাগ
জনপ্রিয়
শাল্লায় এক পরিবারে তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করেছন পিতামাতা

শাল্লায় এক পরিবারে তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করেছন পিতামাতা

নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে দেড় লক্ষাধিক মানুষ

আপডেট সময় : ০৮:১৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

চিকিৎসাসেবায় অগ্রগতি, তবু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সংকট; দ্রুত মেশিন সচলের দাবি

আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে সেবা। এতে উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে এ পরীক্ষা করানোর সুযোগ না থাকায় রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ছে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, হাড় ভাঙা রোগী কিংবা বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় সঠিক রোগনির্ণয়ের জন্য এক্স-রে পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকলে রোগী ও স্বজনদের বাড়তি সমস্যায় পড়তে হয়। নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবাটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম এক্স-রে সেবা চালু হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই মেশিনটি অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ বিরতির পর গত বছর পুনরায় সেবা চালু করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই আবার বিকল হয়ে যায় যন্ত্রটি। এরপর থেকে হাসপাতালটিতে এক্স-রে পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি সংযোজন, ওষুধ সরবরাহ, সার্বক্ষণিক জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্নার (এনসিডি কর্নার) চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে এক্স-রে মেশিন অচল থাকায় প্রয়োজনীয় এই পরীক্ষার ক্ষেত্রে সেবার ঘাটতি রয়ে গেছে।

নিকলী ও আশপাশের হাওরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে নিম্নআয়ের রোগীদের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে এক্স-রে করানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর সুযোগ না থাকায় চিকিৎসার ব্যয় ও ভোগান্তি—দুটিই বাড়ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজীব ঘোষের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালটির বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এক্স-রে মেশিনটি পুনরায় সচল করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পদক্ষেপ, মেরামতের সম্ভাব্য সময়সীমা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করে চালু করা অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।