মাসুদ রানা মনি রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে হিজরা সম্প্রদায়( তৃতীয় লিঙ্গ) কর্মসংস্থান ও সামাজিক মর্যাদা চান। তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) মানুষের সংখ্যা খুবই কম। সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলায় হিজড়া সম্প্রদায়ের সংখ্যা মাত্র ৫০ জন । তবে তাদের অনেকাংশেরই নেই স্থায়ী আয়ের উৎস বা কর্মসংস্থানের সুযোগ। বাসস্থান ও জীবিকার অনিশ্চয়তায় অনেকেই অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে কিংবা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিক ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে তাদের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ফলে, পরিবারিক অবহেলা, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া, কর্মসংস্থানের অভাব এবং সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়ে বছরের পর বছর দুর্বিসহ জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গেও ব্যক্তি সাথে কথা বললে তারা অভিযোগ করে বলেন, অবেহলা আর অপমান যেন নিত্যসঙ্গী সমাজে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা খুব কঠিন। কাজের সুযোগ না থাকায় অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করেই জীবন কাটাতে হচ্ছে। আমাদেরও অন্য সবার মতো বাঁচার অধিকার আছে। সরকার কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে আমরা সম্মানের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারব।”
পৌরসভার মধ্য আঙ্গারপাড়া গ্রামের তৃতীয় লিঙ্গের বুলু আক্তার(৬৫) কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, “আল্লাহ আমাকে এভাবে সৃষ্টি করেছেন। স্বামী-সন্তান নেই। মানুষের বাসায় কাজ করে কোনোভাবে জীবন চলছে। থাকার ঘরটিও ভাঙাচোরা। বয়সের সঙ্গে শরীওে নানা রোগে বাসা বেঁধেছে। বেশীর ভাগ সময় অসুস্থ থাকি কিভাবে চলব জানি না। রাতে দুশ্চিতায় ঘুম আসে না। সমাজসেবা অফিস থেকে মাসে ৭০০টাকা ভাতা পাই। এই টাকায় জীবন চালানো সম্ভব নয়।”
ইছাপুর গ্রামের ফুল বানু ও জয়নাল আবেদীন, নয়নপুর গ্রামের শাহজাহান, উপজেলার স্থায়ী তৃতীয় লিঙ্গের অনেকেই বর্তমানে স্বজন বা পরিচিত জনের আশ্রয় কিংবা মানুষের সহায়তায় জীবনযাপন করছেন। অনেকেরই নিজস্ব বসতঘর নেই। কেউ কেউ ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমেও জীবিকা নির্বাহ করছেন।
অন্যদিকে পৌরসভার সোনাপুরে বসবাসরত পিজুস সরকার, কাউছার, অভি ,আতিক, শামীম ও সুমন সহ প্রায় ২০-২৫ জন দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন হাট-বাজার, দোকানপাট ও সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের ভাষ্য, সরকারিভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে তারা ভিক্ষাবৃত্তি ও পরনির্ভরশীল জীবন ছেড়ে সম্মানজনক পেশায় যুক্ত হতে চান।
সামাজিক সচেতন ব্যক্তিদের মতে, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনগোষ্ঠীকে সমাজের বোঝা হিসেবে না দেখে দক্ষতা উন্নয়ন,প্রশক্ষিণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে তাদের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। এতে অনেকেই বাধ্য হয়ে রাস্তা-ঘাট, দোকানপাট, বা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অর্থ সংগ্রহের যে পেশায় যুক্ত আছেন, সেখান থেকেও সম্মানজনক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান বলেন, সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গেও মানুষের খোঁজখবর নিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যারা এখনো ভাতার আওতায় আসেননি, তাদের যাচাই-বাছাই করে ভাতার আন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।




















