বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী লালন উৎসবে ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগে সক্রিয় ছিল মোবাইল ফোন চোর চক্র। উৎসবের তিন দিনে মোবাইল ফোন হারানো ও চুরির ঘটনায় কুমারখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন অন্তত ৮৬ জন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন।
সাধু-বাউল ও ভক্তদের মতে,এবারের লালন তিরোধান দিবসে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় জনসমাগম ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো আখড়াবাড়ি এলাকা ছিল মুখর। আর এই বিপুল জনসমাগমের মধ্যে অনেক দর্শনার্থী মোবাইল ফোন হারিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।
লালন মেলায় ঘুরতে এসে ফোন হারিয়ে কয়েকজন জানিয়েছেন, এবার মেলায় প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল।সেই ভিড়ের মধ্যেই চোর চক্রের সক্রিয়তায় মোবাইল ফোন হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। পরে এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছেন বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সাংবাদিক আরাফাত হোসেনও মেলায় গিয়ে মোবাইল ফোন হারানোর কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন,মেলার দ্বিতীয় দিন লালন মঞ্চের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হওয়ার সময় দেখি পকেটে মোবাইল ফোন নেই। পরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।
তিনি আরও বলেন,এত মানুষের সমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও বেশি নজরদারি রাখা উচিত ছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, বুধবার পর্যন্ত লালন তিরধান দিবসে মাজার এলাকা থেকে মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় থানায় ৮৬টি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে পুলিশের একটি দল কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো মোবাইল ফোন উদ্ধার বা চোর চক্রের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে মোবাইল ফোন হারানো ও চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।





















